দশমিনা-গলাচিপা উপজেলায় বৃহত্তর একটি ঐক্য গড়ে উঠেছে। কিন্তু বিএনপির কিছু নেতা অর্থের বিনিময়ে সেই ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নে সভা করে যে শপথ নেওয়া হয়েছিল, তা ভেঙে তাঁরা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। রাজপথে তাঁরা নিজেদের মোনাফেক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি—তাঁরা যেন ইমান ফিরে পায় এবং ১২ তারিখের আগেই সঠিক পথে ফিরে আসে। অন্যথায় ১২ তারিখের পর জনগণের রায় দেখে তওবা করলেও তা আর কবুল হবে না।
গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দশমিনা উপজেলায় পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে এক নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক মিছিলে অংশ নেন। মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় এসব কথা বলেন হাসান মামুন।
ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে অবস্থান নিয়ে জনগণের রায় রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ঐক্য নষ্ট করে যারা অর্থের বিনিময়ে অবস্থান বদল করেছেন, তাঁদের জন্য ১২ তারিখের পর আর সুযোগ নেই।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘১২ তারিখ ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন। কোনো অপশক্তি যেন আপনাদের ভোটের রায় ছিনিয়ে নিতে না পারে।’ তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে তাদের ভোট দখলের ষড়যন্ত্র চলছে। তবে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সমর্থকেরাও এসব ষড়যন্ত্রকারী ও অর্থলোভীদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
হাসান মামুন আরও বলেন, ‘যারা আজ দল বাছাই করতে পারছে না, তাদের চোখে জল। ভবিষ্যতে জনগণের ঐক্য ও গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্য দিয়ে তারা রাজনীতিতে ফিরতে পারলে আমরা তাদের স্বাগত জানাব। তবে যারা অর্থের বিনিময়ে বিএনপির ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা করেছে, ১২ তারিখের পর বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘চর বোরহান ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাঁধভাঙা জোয়ার লক্ষ করেছি। ১২ তারিখের ভোটের মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হবে।’ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে গিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে প্রশাসন ও আমরা আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। জনগণের বিজয়ের মধ্য দিয়েই ঘোড়া প্রতীকের বিজয় হবে—ইনশা আল্লাহ।’