পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনীষা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ সাতজনের নিয়োগে জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। প্রতিবেদনে গৃহীত বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১২ মার্চ উপজেলার অষ্টমনীষা উচ্চবিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক রাকিবুল হাসান। এরপর ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট তিনি নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করেন। যেখানে তিনি তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সাত শিক্ষকের নিয়োগে নানা অনিয়ম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অষ্টমনীষা উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন ১৪ শিক্ষক। তার মধ্যে ১৩ জন এমপিওভুক্ত। তাঁদের মধ্যে সাত শিক্ষকের নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি। নিয়োগ রেকর্ড যাচাই করে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক মো. আনছার আলী ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন। তার আগে তিনি একই উপজেলার রূপসী উচ্চবিদ্যালয়ে ১৯৯৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ২০০০ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি প্রথম এমপিওভুক্ত হন। নিয়োগের সময় আনছার আলীর কাম্য যোগ্যতা ১২ বছর ছিল না।
সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আয়নুল হক ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি যোগদান করেন। তিনি আগে চাটমোহর উপজেলার চিনাভাতকুর ওয়ারেছিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২০০৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) পদে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু তিনি যোগদানকালে আগের প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র দাখিল করেননি।
সহকারী শিক্ষক স্বপ্না রানী পাল ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি যোগদান করেন। তাঁর নিয়োগে আকাঙ্ক্ষিত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ছিল না। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক রোখসানা খাতুন ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি যোগদান করেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতায় কৃষি ডিপ্লোমা সনদ না থাকায় আবেদন বাতিলযোগ্য ছিল।
আরেক সহকারী শিক্ষক মো. রেজাউল করিম ২০১০ সালের ১০ জুন যোগদান করেন। ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তারিখের নীতিমালা মোতাবেক সহকারী শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় আবেদন বাতিলযোগ্য ছিল। একইভাবে সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ আলীর সনদটি গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানের নয়। তাঁর নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি। সহকারী শিক্ষক মো. হামিদুর রহমান পরিদর্শনকালে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ প্রদর্শন করতে পারেননি।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব শিক্ষকের বেতন-ভাতা বাবদ গ্রহণ করা ১ কোটি ১৭ লাখ ৫ হাজার ৯১৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মো. আনছার আলী বলেন, ‘নিরীক্ষা অধিদপ্তর যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে, সেটা সঠিক নয় বলে মনে করি।’ তবে তৎকালীন নিয়োগ বোর্ডে যাঁরা ছিলেন, তাঁদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, ‘ওই বিদ্যালয়ের সাত শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম হওয়ার বিষয়ে আমি কোনো চিঠি পাইনি।’ পেলে নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।