নীলফামারীর ডোমার, ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবহমান বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্প এলাকা ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। জলাধার খননকে কেন্দ্র করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বিরোধের জেরে প্রায় ৭০০ কৃষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে মশাল মিছিল করেছেন সহস্রাধিক মানুষ।
পাউবোর নীলফামারী উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বাদী হয়ে জলঢাকা থানায় শুক্র ও শনিবার পৃথক দুটি মামলা করেন। এতে ১৯ ও ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ৬৯১ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলায় সরকারি কাজে বাধা, জমি দখল, আনসার ক্যাম্পে হামলা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদী অভিযোগ করেছেন, ঘটনাটি তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ফল নয়; বরং এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা।
জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম পাউবোর পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে আন্দোলনরত কৃষকেরা মামলাকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া তিন ফসলি জমি রক্ষার আন্দোলন দমন করতেই গণমামলা দেওয়া হয়েছে।
মশাল মিছিলে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, ১৯৬৮ সাল থেকে তাঁরা প্রায় ১ হাজার ২১৭ একর জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, ডিমলা ও জলঢাকার পাঁচটি মৌজার এই জমিতে কোনো সঠিক অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই পাউবো জলাধার খননের উদ্যোগ নিয়েছে। অথচ জমির মালিকানা দাবি করায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
কৃষকেরা আরও বলেন, ২০১০ সালে উচ্চ আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। এখন জোরপূর্বক জলাধার খননের মাধ্যমে তাঁদের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নীলফামারী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, ‘এই জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে রেকর্ডভুক্ত এবং আমরা নিয়মিত খাজনা দিচ্ছি। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সীমানা যাচাই করেই খননকাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। জমির মালিকানা নিয়ে যাঁরা দাবি করছেন, তা আইনগতভাবে সঠিক নয়।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের ১ জানুয়ারি দুই দফায় বুড়ি তিস্তার পাউবোর সংরক্ষিত এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জলাধার খননকাজে নিয়োজিত আনসারদের ক্যাম্প ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ভাঙচুরসহ ব্যাপক লুটপাট হয়। পাউবোর দাবি, এসব হামলায় প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, সরকারি উন্নয়নকাজে বাধা দিতে এই সহিংসতা চালানো হয়েছে।