নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ শেরেবাংলা সড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। সড়কটি ১৫ থেকে ২৪ ফুট প্রশস্ত করা হবে। কিন্তু সড়কে বিদ্যুতের ১৫টি খুঁটি রেখেই কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। এতে সড়কে যান চলাচলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পৌর কর্মকর্তারা জানান, সড়কটি প্রশস্ত করতে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরাতে হবে। এ জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়, কিন্তু তারা কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এখন খুঁটিগুলো যেভাবে আছে, সেভাবে রেখেই কাজ করা হচ্ছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের তামান্না সিনেমা হল থেকে ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত শেরেবাংলা সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার। এটি শহরের প্রধান সড়ক। সড়কটিতে ১০ বছর ধরে কোনো সংস্কারকাজ করা হয়নি। ফলে এটি ছিল খানাখন্দে ভরা। পৌর বাসিন্দাদের দাবি ও আন্দোলনে অবশেষে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়।
কিন্তু সড়কের ওপরে রয়েছে বিদ্যুতের ১৫টি খুঁটি। এ নিয়ে পৌরসভা ও বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে চিঠি চালাচালি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফল হয়নি।
সড়কটির সংস্কারকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি সড়ক থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে সংস্কার করা, কিন্তু সংস্কারকাজ চললেও খুঁটিগুলো সরানো হয়নি।
সড়ক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শেরেবাংলা সড়কের তামান্না মোড় থেকে সৈয়দপুর প্লাজা পর্যন্ত আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে সড়কের সংস্কারকাজ চলমান। এটুকু সড়কের মাঝেই রয়েছে একাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি। বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় সড়কের ওই অংশ দিয়ে পথচারী ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
পৌর বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মাসুদ চৌধুরী বলেন, ‘সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি, তবে বিদ্যুতের পিলারগুলো এখনই সরানো উচিত। না হলে পরে দেখা যাবে, এ নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না। এসব খুঁটির কারণে নানা দুর্ঘটনা ঘটবে।’
আরেক ব্যবসায়ী আরমান হোসেন বলেন, সড়কের মাঝে একাধিক খুঁটি রেখেই সংস্কারকাজ চলছে। বারবার বলার পরও খুঁটিগুলো সরানো হচ্ছে না। এভাবে সড়কের মাঝে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে সড়কের সংস্কারকাজ শেষ করলে জনসাধারণের ভোগান্তির শেষ থাকবে না।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নেসকো কর্তৃপক্ষকে খুঁটি সরানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে সড়কের খুঁটিগুলো সরিয়ে ফেলা হবে।’
সৈয়দপুর নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম হোসেন বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের আবেদন অবশ্যই গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। আগে খুঁটিগুলো শুধু স্থানান্তর করার কথা ছিল, কিন্তু খুঁটিগুলো পুরোনো লোহার হওয়ায় স্থানান্তর জটিল। সেখানে নতুন সিমেন্টের গোলাকার খুঁটি লাগাতে হবে। ইতিমধ্যে বাজেট প্রণয়ন করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। জনগণের সুবিধার্থে অবশ্যই সড়কের খুঁটি সরানো হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।