হোম > সারা দেশ > নেত্রকোণা

নৈহাটী হাটে ৪০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়, সরকারি কোষাগারে জমা মাত্র ১৫ লাখ

সাইফুল আরিফ জুয়েল, নেত্রকোনা 

নৈহাটী পশুর হাটের ছবি। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় নৈহাটী পশুর হাটে ব্যাপক কেনাবেচা হয়েছে। এতে খাস কালেকশনে থাকা ওই হাটে ৪০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫ লাখ টাকা।

নিয়মানুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি-এসি ল্যান্ড) তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে ওই হাট থেকে রাজস্ব আদায়ের কথা থাকলেও এবার ঈদের হাটে খাস আদায় করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। হাট শেষে হিসাবে ৪০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়, অথচ সরকারি কোষাগার পেল কেবল ১৫ লাখ। এ হিসাব খোদ খাস আদায় করা নেতার। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলছেন ভিন্ন কথা।

নৈহাটী বাজার কমিটির সদস্যসচিব বারহাট্টা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগে সোমবার ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে ওই হাট থেকে। এর মধ্যে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে পাশের একটি মাদ্রাসায়। এর বাইরে কোনো টাকা তোলার বিষয়ে আমার জানা নেই।’

প্রশাসনের বদলে বিএনপি নেতারা কেন খাস আদায়ে নেমেছিলেন—এমন প্রশ্নে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, হাটের জন্য লোকবল কম ছিল, তাই বিএনপি নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি।

এদিকে হাটসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গুরুতর অনিয়ম হয়েছে এবার। খাস আদায়ের কাজ প্রশাসনের হলেও ইউএনও ও এসি ল্যান্ডের সহযোগিতায় এ কাজে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিক আহমেদ কমল, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রহমত আলী, সহসভাপতি মানিক আজাদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল্লাহ সোহেল।

খাস আদায়ের পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে পকেটে পুরেছেন এই নেতারা—অভিযোগ হাটসংশ্লিষ্টদের। অভিযোগকারীরা নিরাপত্তার শঙ্কায় নাম প্রকাশে রাজি হননি।

অভিযোগকারীরা জানান, ঈদুল আজহা ঘিরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পাশের জেলা থেকেও কয়েক লাখ পশু আনা হয়েছে নৈহাটী হাটে। জমেছে কেনাবেচাও। হাটের প্রবেশ ফি, ইজারা, খাস আদায় এবং বিভিন্ন খাত থেকে সংগ্রহ হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। তবে সরকারি হিসাবপত্রে মাত্র ১৫ লাখ টাকা জমা দেখানো হয়েছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৈহাটী বাজার থেকে গরু কিনেছেন স্থানীয় আবুল কালাম আজাদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, এবার হাটে তিন গুণ হাসিল আদায় করা হয়েছে। অন্যান্য সময় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই ২০০ করে ৪০০ টাকা হাসিল দিত, অথচ এবার ঈদের বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় থেকে ৬০০ করে ১ হাজার ২০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।

জানতে চাইলে হাটের দায়িত্বে থাকা উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রহমত আলী বলেন, ঈদের আগে শেষ হাটে টাকা কালেকশনে ব্যাপক খরচ হয়। ৫৫ জন ভলান্টিয়ার হাটে কাজ করেন। সেদিন মোট ৪০ লাখ টাকা খাস আদায় করা হয়েছে। সরকারি কোষাগারে ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়েছে, বাকি টাকা হাট পরিচালনা ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে। কোনো টাকা আত্মসাৎ হয়নি।

উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মানিক আজাদ এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নাকচ করেছেন। তিনি বলেম, ‘আমি নির্বাচনমুখী মানুষ। হাটে কত টাকা উত্তোলন হয়েছে বা তা দিয়ে কী করা হয়েছে, আমি জানি না।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিক আহমেদ কমলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পাওয়া যায়নি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল্লাহ সোহেলকেও।

বিষয়টি অবহিত করলে ইউএনও সেলিনা রহমান বলেন, হাটের রাজস্ব আদায় ও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়ে ওঠা অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক গরমিলের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোনায় নৌকাডুবিতে শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু

৪ প্রাণহানির পরদিন নেত্রকোনার দুর্ঘটনাস্থলে স্পিডব্রেকার নির্মাণ শুরু

মাছ ধরার জালে আটকা ১০ ফুট লম্বা অজগর, উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত

নেত্রকোনায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪

‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’—বক্তব্যের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার

নেত্রকোনায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে মা ও দুই মেয়ে নিহত

কলমাকান্দায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই যুবক নিহত, একজন গুরুতর আহত

দুর্গাপুরে বিজিবির অভিযানে ১৯৮ বোতল ফেনসিডিল জব্দ

পূর্বধলায় পাগলা শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ আহত ১০

ভিজিএফ কার্ড না দেওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানকে ঝোলানোর হুমকি ছাত্রদল নেতার