জ্যৈষ্ঠের খরতাপে পুড়ছে নাটোরের লালপুর। প্রখর রোদ, গরম বাতাস ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আজ সোমবার (১ জুন ২০২৬) তাপমাত্রা ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে গরমের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।
দেশের অন্যতম উষ্ণ জনপদ লালপুরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। প্রখর রোদে মাঠে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গরমে ঘাম ঝরছে অবিরাম। বিদ্যুৎচালিত পাখার বাতাসেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, সড়ক ও জনসমাগমস্থলে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। দিনভর তাপদাহের পর রাতেও মিলছে না স্বস্তি, ফলে জনমনে বাড়ছে অস্বস্তি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে গরমের তীব্রতা ক্রমাগত বাড়ছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও গরমের প্রভাব থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুরুজ্জামান শামীম বলেন, তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের প্রখর রোদে বাইরে না যাওয়াই ভালো। পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ, ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন জানান, আজ বিকেল ৩টায় লালপুর অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫০ শতাংশ।