নাটোরের বনপাড়ায় নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিডে ডাকাতির পরিকল্পনা করা হয় কারাগারে বসে। জামিনে মুক্ত হয়ে রুহুল আমিন (৩৮) ও মো. সৈকত আলী (২৫) নামের দুজন ডাকাতির ঘটনায় নেতৃত্ব দেন। ডাকাতির পর তাঁরা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। আট জেলায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া বাকি ব্যক্তিরা হলেন রোকন মোল্লা, তাসলিম প্রামাণিক, আব্দুস সালাম, শিহাব উদ্দিন, মন্টু মোল্লা, বাছেদ মন্ডল, উজ্জল মোড়ল, জাহাঙ্গীর আলম, হারুনুর রশীদ, নায়েব আলী ও সাইফুল ইসলাম।
আজ শুক্রবার দুপুরে নাটোরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব।
পুলিশ সুপার বলেন, গত ২৫ মার্চ রাতে বড়াইগ্রামের বনপাড়া এলাকায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ঢুকে। তারা সেখানে থাকা চার নিরাপত্তাপ্রহরীকে মারধর করে হাত-পা ও চোখ বেঁধে জিম্মি করে রাখে।
পরে প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও ব্যাটারি লুট করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিগনি ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক অনিক কুমার বিশ্বাস বড়াইগ্রাম থানায় একটি মামলা করেন।
গত বৃহস্পতিবার পুলিশের যৌথ অভিযানে নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাকাত দলের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ৩৫০টি ব্যাটারি সেল, একটি ট্রাক, ১০টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পেশাদার ডাকাত। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া সদস্যদের মধ্যে রুহুল আমিন ও সৈকত নামের দুজন ডাকাতির মূল সমন্বয়ক। তাঁরা জেলখানায় বসেই এই ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট মালপত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে।
পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব আরও বলেন, পাওয়ার গ্রিড নির্মাণ-সংক্রান্ত কোনো অবহিতপত্র পিজিসিবির পক্ষ থেকে পুলিশকে দেওয়া হয়নি। উপরন্তু গ্রিডের নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। মহাসড়ক থেকেই দেখা যেত গ্রিড কম্পাউন্ডের ভেতর কি হচ্ছে। এসব কাঠামোগত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ইফতে খায়ের আলম, বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড়, বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।