ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে বড় ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন বকুল। প্রায় ৩০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসন পুনরুদ্ধার করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টায় রায়পুরা উপজেলা হলরুমের কন্ট্রোল রুমে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৮ হাজার ২৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৫ হাজার ২১ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ২৬৭ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৮ জন। আসনটির মোট ১৬৭টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। আসনটিতে প্রদত্ত ভোটের ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়ে। সব কটি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, আশরাফ উদ্দিন বকুল (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫১২ ভোট।
তাজুল ইসলাম (রিকশা) পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৬৮২ ভোট এবং বদরুজ্জামান উজ্জ্বল (হাতপাখা) পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫৮২ ভোট।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ৯১ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আশরাফ উদ্দিন বকুল। ফল ঘোষণার পর রায়পুরা উপজেলাজুড়ে ধানের শীষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস দেখা যায়। দীর্ঘদিন পর এই আসনে ক্ষমতার পালাবদলে রায়পুরার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই আসনে ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুল হক খসরু, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মাঈন উদ্দিন ভূঁইয়া, ১৯৯১ সালে বিএনপির আবদুল আলী মৃধা এবং ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আবারও আবদুল আলী মৃধা এমপি নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এমপি নির্বাচিত হন। পরে একাধারে ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংসদ নির্বাচনে রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন।