পুলিশের পোশাক বা ইউনিফর্মকে যাঁরা দুর্নীতির মাধ্যমে কলুষিত করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে বাহিনী থেকে অপসারণ এবং বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন নরসিংদী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম আনোয়ার। তিনি বলেছেন, ‘যে ইউনিফর্ম আমাদের সম্মানের প্রতীক, সেটিকে যারা কলুষিত করছে, তাদের স্থান বাহিনীতে নয়, বিচারালয়ে হওয়া উচিত।’
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া তাঁর এক দীর্ঘ পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পুলিশ সংস্কারের প্রশ্ন। তাঁর বক্তব্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সাড়াও ফেলেছে।
ওই পোস্টে শামীম উল্লেখ করেন, নাগরিকবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত হলো একটি পেশাদার, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ বাহিনী। প্রশাসনের অন্যান্য খাতে দুর্নীতি থাকলেও জনগণের সঙ্গে সরাসরি সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ থাকায় পুলিশকে আগে সংস্কার করা জরুরি বলে তিনি মত দেন।
ওই পোস্টে শামীম বলেন, ‘পেশাদার ও দুর্নীতিমুক্ত পুলিশই নাগরিকবান্ধব রাষ্ট্রের ভিত্তি। অসহায় মানুষের কাছ থেকে সামান্য ঘুষ নেওয়াও বড় দুর্নীতির চেয়ে বেশি নিন্দনীয়। দেশের অধিকাংশ মানুষ চরম বিপদের সময় পুলিশের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সেবা নিতে গিয়ে যদি হয়রানি বা ঘুষের সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি সামগ্রিক অনাস্থা তৈরি হয়।’ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব এবং নীতিহীনতার কারণে পুলিশের প্রতি সমাজে একধরনের অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে পুলিশের কার্যক্রমে জনগণের সহযোগিতা কমে যাচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
পুলিশি হয়রানি, মামলা গ্রহণে অনীহা, তদন্তে পক্ষপাত এবং রূঢ় আচরণের মতো অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব সমস্যার অন্যতম মূল কারণ অবৈধ আর্থিক লাভের প্রবণতা। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অন্যান্য অপেশাদার আচরণও কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নতুন সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে শামীম আনোয়ার বলেন, সংস্কার কার্যক্রমের সূচনা পুলিশ বাহিনী থেকেই হওয়া প্রয়োজন। এতে সৎ সদস্যদের মনোবল বাড়বে এবং জন-আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব হবে। পদমর্যাদা বিবেচনা না করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।