নারায়ণগঞ্জের সদর থানার আওতাধীন বউবাজার এলাকায় এক নারীকে (২৪) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্বামী মামলা দায়ের করলে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতেই জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার আসামিদের আদালতে পাঠালে তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আসামিরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মহসিন ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বিথীর আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার ছোট ঘাগুটিয়া এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে সুমন রানা (৩৫), আড়াইহাজার থানার রতন শেখের স্ত্রী সেলিনা (৩৫) ও মুন্সিগঞ্জের বেজগাঁও এলাকার মৃত সিরাজুল হকের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৫৫)। একই ঘটনায় পলাতক রয়েছে মেহেদী হাসান (৩০) ও সৌরভ (৩০)।
থানার পুলিশ বলছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বউবাজার নয়াপাড়া এলাকায় অভিযুক্ত সেলিনার ভাড়াবাড়িতে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্বামী সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর স্বামীর পূর্বপরিচিত হওয়ায় অভিযুক্ত সুমন রানার সঙ্গে প্রায়ই কথাবার্তা হতো। পরিচয়ের সুবাদে সম্প্রতি ভুক্তভোগী সুমনের কাছে ১ হাজার টাকা ধার চান। সুমন টাকা নিতে তাঁকে শহরের ডিআইটি এলাকায় যেতে বলেন। নির্ধারিত স্থানে যাওয়ার পর অভিযুক্ত সুমন জানান তাঁর কাছে টাকা নেই, তবে তিনি টাকা ম্যানেজ করে দিতে পারবেন। এরপর রিকশা নিয়ে বউবাজার নয়াপাড়া এলাকায় সেলিনার বাসায় ভুক্তভোগীকে নিয়ে যান সুমন। সেখানে অভিযুক্ত সেলিনা ভুক্তভোগীর কোলে থাকা শিশুটিকে কেড়ে নেন। এরপর সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করেন সুমন। পরে সুমন আরও তিনজনকে ফোন দিয়ে ডেকে আনলে তারাও পালাক্রমে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক (অপারেশন) খোকন চন্দ্র সরকার বলেন, ‘ধর্ষণ মামলা দায়ের হওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুই আসামিকে ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’