নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পাঁচ মাস আগে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মাথাবিহীন আব্রাহাম খান হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও পলাতক আসামি মোবারক মণ্ডলকে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় কাতার থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দেশে আনার পর আদালতে হাজির করলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোস্তাক কামাল রাশেদ আজকের পত্রিকাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পিবিআই জানায়, গত বুধবার সকাল ৬টার দিকে কাতার থেকে মোবারক মণ্ডলকে দেশে আনা হয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মোবারক মণ্ডল (৪৭) রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাড়নারায়ণপুর এলাকার ইয়াছিন মণ্ডলের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করছিলেন। পিবিআইয়ের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ড সংঘটনের এক দিন আগে তিনি গোপনে দেশে এসে স্ত্রী ও স্বজনদের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে আব্রাহাম খান ওরফে আলিম খানকে হত্যা করেন। পরে আবার বিদেশে পালিয়ে যান।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর সকালে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার শ্রীনিবাসদী এলাকার একটি বালুর মাঠসংলগ্ন রাস্তার পাশে মাথাবিহীন একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ব্যক্তি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার আব্রাহাম খান ওরফে আলিম খান (২৭)।
এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বাবা ওয়াজেদ আলী খান বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ ডিসেম্বর ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে রুহুল আমিন রাব্বি (২৬) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই জানায়, তদন্তে বেরিয়ে আসে যে নিহত আব্রাহাম খানের সঙ্গে রুহুল আমিনের খালার পরকীয়া ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে নিহত ব্যক্তি ওই নারীকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন। এর জেরে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৫ ডিসেম্বর আব্রাহাম খানকে রাজবাড়ী থেকে কৌশলে আড়াইহাজারে ডেকে আনা হয়। সেখানে রুহুল আমিন, তাঁর খালা ও অন্য সহযোগীরা মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে পরিচয় গোপনের চেষ্টা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা, বিচ্ছিন্ন মাথা ও নিহত ব্যক্তির পোশাক ব্যাগে ভরে পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়।
পিবিআই আরও জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মোবারক মণ্ডল। তাঁর নির্দেশনা ও উপস্থিতিতেই পুরো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইন্টারপোলের সহায়তায় কাতার থেকে আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।