নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক স্কুলছাত্রীকে (১১) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ১৭ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে চার আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি রকিব উদ্দিন আহমেদ।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামল এই রায়ের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ঘোষণার পরই তিন আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ মামলার দুই আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—কামরুল হাসান, রবিউল ইসলাম, আলী আকবর ও শুক্কুর আলী। এ মামলায় যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন রবিউলের মা ডলি বেগম। একই মামলায় খালাস পেয়েছেন আরেক আসামি নাসরিন আক্তার। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রবিউল ও ডলি বেগম পলাতক রয়েছেন।
আইনজীবী রকিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বাদীসহ ২৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ (মঙ্গলবার) আদালত পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন।’
রায়ের বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেরিতে হলেও এই মামলার রায় হয়েছে। এখন পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ৩ জুন সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের লক্ষীনগর এলাকার একটি ধইঞ্চাখেত থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। ২০০৬ সালে মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যা করে। মামলায় দুই আসামি রবিউল ও কামরুল ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।