হোম > সারা দেশ > নওগাঁ

নওগাঁর রাণীনগর

সার নিয়ে কারসাজি, বিপাকে কৃষকেরা

সুমন আলী, নওগাঁ

নওগাঁর রাণীনগরে গত রোববার বোরো ধানের চারা রোপণ ও জমি প্রস্তুতের কাজ করেন চাষিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

শুরু হয়েছে বোরো ধান রোপণের মৌসুম। তবে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নওগাঁর রাণীনগরে কৃষকেরা সরকারনির্ধারিত মূল্যে রাসায়নিক সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের অভিযোগ, বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে। সিন্ডিকেট করে ডিলার ও অসাধু ব্যবসায়ীরা পকেট কাটছে কৃষকদের।

কৃষকেরা বলছেন, উপজেলায় সরকার অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে সার না পেয়ে তাঁরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দাম দিয়ে খুচরা দোকান থেকে কিনছেন। তাঁদের অভিযোগ, সার ডিলার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বস্তাপ্রতি ২০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সারের আমদানি কম। তাই বাইরে থেকে আনার ফলে দাম কিছুটা বেশি। স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, চাহিদা অনুযায়ী সারের কোনো সংকট নেই।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার বিসিআইসি ডিলারেরা বরাদ্দের সার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে কিছু খুচরা বিক্রেতার কাছে এবং যাদের সাব-ডিলারের লাইসেন্স নেই তাঁদের কাছে বেশি মুনাফায় বিক্রি করছেন। উপজেলার তালিকাভুক্ত ডিলারদের গুদাম বা দোকানঘর এক জায়গায়, বিক্রি করছেন আরেক জায়গায়। এমনকি একেকজনের একাধিক ডিলারশিপ আছে। এতে ওই এলাকার কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না। এ ছাড়া অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যাঁদের সার বিক্রির বৈধ কোনো কাগজ নেই অথচ তাদের ঘরে সার মজুত থাকে। কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

সুজন নামের এক কৃষক বলেন, ‘প্রতিবছর ধান লাগানোর মৌসুম এলেই সারের বড় ডিলারেরা একটা পাঁয়তারা শুরু করেন। তাঁরা গোডাউনে মজুত রেখে তালা মেরে বলেন সার নেই, সংকট চলছে।’

আবাদপুকুর এলাকার কৃষক নুরুল ইসলামের অভিযোগ, ‘কৃষি অফিসের যোগসাজশে ডিলাররা প্রতি মৌসুমে সারের সিন্ডিকেট তৈরি করেন। ফলে সরকারি রেটে আমরা সার পাই না, বস্তাপ্রতি ১০০-২০০ টাকা দাম বেশি দিয়ে ঘুরে ঘুরে কিনতে হয়।’ কৃষি অফিসাররা ঠিকমতো বাজার মনিটরিং করেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মাঝগ্রামের কীটনাশক বিক্রেতা রানার সার বিক্রির কোনো লাইসেন্স না থাকলেও তিনি বিক্রি করেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিসিআইসি এক ডিলারের কাছ থেকেই প্রতিবস্তা ডিএপি ১৩০০, ইউরিয়া ১৩২০-৩০ এবং টিএসপি ১৬০০ টাকায় কেনেন। মাঝেমধ্যে ডিএপি ও টিএসপি ২০০০-২২০০ টাকায়ও কিনতে হয়। কিছু লাভ রেখে কৃষকদের কাছে বিক্রি করি।’

রাণীনগর উপজেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাত্তার শাহ বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় আমদানি কম। তাই নোয়াপাড়াসহ একাধিক জায়গা থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আর এক জায়গার ব্যবসায়ী হয়ে অন্য জায়গায় সার বিক্রি করার নিয়ম নেই।’

উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার জাহিদ বলেন, ‘উপজেলার বিসিআইসি এবং বিএডিসি যত ডিলার আছেন, সবার ঘরে গিয়ে আমরা প্রতি মাসে পরিদর্শন করে আসি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাকিমা খাতুন বলেন, ‘আপনারা তো জানেন সার কীভাবে কেনাবেচা হচ্ছে। যেভাবেই হোক কৃষকেরা সার পাচ্ছেন এটা কৃষকদের উপকার।’ সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে, এমন প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

হলুদ নিয়ে হাটে যাচ্ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৫ কৃষক, ট্রাকচাপায় ঝরল প্রাণ

নওগাঁয় ডাম্প ট্রাকের চাপায় নিহত ৫

নওগাঁয় টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ

স্বতন্ত্র প্রার্থীর লিফলেট বিতরণ করায় প্রতিবন্ধী যুবককে মারধর

নওগাঁ: ছয় আসনের তিনটিতেই বিএনপির কাঁটা স্বতন্ত্ররা

পোরশা সরকারি কলেজ: একসঙ্গে দুই পদে ৩ শিক্ষক

ধামইরহাটে ট্রাকচাপায় প্রতিবন্ধী নারী নিহত

বদলগাছী সমাজসেবা অফিস: গরিবের চিকিৎসার টাকা লোপাট

ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

জামায়াতের চোখ ফোটাল বিএনপি, তারাই আবার ভয় দেখায়: সামসুজ্জোহা