ফজরের নামাজ শেষে মসজিদের সামনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন তিন বন্ধু। পরে একটি দোকানে বসে গল্প করছিলেন তাঁরা। এ সময় ইটবাহী একটি ডাম্প ট্রাক তাঁদের ওপর উঠে যায়। এতে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরেকজন। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের গয়াতলা দক্ষিণপাড়া দোতলা মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন নেকবর সরকার (৬৫) ও মো. কাইয়ুম দেওয়ান (১০০)। নেকবর সরকার উপজেলার রামানন্দন গ্রামের মৃত লেচু সরকারের ছেলে। কাইয়ুম দেওয়ান গয়াতলা দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত শহর আলী দেওয়ানের ছেলে। আহত হাশেম ব্যাপারী (৭৫) একই এলাকার মৃত হোসেন ব্যাপারীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ফজরের নামাজ আদায়ের পর তিন বন্ধু মসজিদের সামনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। একপর্যায়ে তাঁরা একটি দোকানে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় সিরাজদিখান থেকে আসা ইটবাহী নম্বরবিহীন একটি ডাম্প ট্রাক দ্রুতগতিতে তাঁদের ওপর উঠে যায়। এতে নেকবর সরকার ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত কাইয়ুম দেওয়ানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। আহত হাশেম ব্যাপারী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
আহত হাশেম ব্যাপারী বলেন, ফজরের নামাজ শেষে তাঁরা তিন বন্ধু মসজিদের সামনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। পরে একটি দোকানে বসে গল্প করার সময় হঠাৎ একটি ডাম্প ট্রাক তাঁদের ওপর উঠে যায়। এতে নেকবর সরকার ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং তাঁরা দুজন আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে কাইয়ুম দেওয়ানের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার পর ডাম্প ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। তাঁদের দাবি, ট্রাকটিতে গাঁজা ও গাঁজা সেবনের কিছু সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেদী হাসান বলেন, সকালে স্থানীয় লোকজন এক বৃদ্ধকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বৃদ্ধ নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।