মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে একটি মাজারের ভেতরে জাহিদ ব্যাপারী (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ভিটি হোগলাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত জাহিদ ব্যাপারী ভিটি হোগলাকান্দি এলাকার প্রয়াত তোতা ব্যাপারীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর ছিলেন। পরিবারের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে জাহিদ ব্যাপারী স্থানীয় হজরত দয়াল বাবা সমশের রুহুল আমিন শাহ (রহ.)-এর মাজারে অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিবেশী ফরিদ ব্যাপারী (৫৬) ছুরি হাতে মাজারে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি জাহিদকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। পরে মাজারের ভেতরে থাকা কয়েকজন নারী তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে নিহত জাহিদ ব্যাপারীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। তাঁরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
জাহিদ ব্যাপারীর পরিবারে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও মা রয়েছেন। পাঁচ সদস্যের সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
নিহতের বড় মেয়ে ফারিহা আক্তার জানান, তাঁর বাবা আওয়ামী লীগের একজন কর্মী ছিলেন। একসময় দলের মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিতেন। তবে কখনো কারও ক্ষতি করেননি। এ কারণে এলাকার অনেকেই পালিয়ে গেলেও তাঁর বাবা গ্রামেই ছিলেন। দিনমজুরি করে যা আয় করতেন, তা দিয়েই সংসার চালাতেন। কোনো কারণ ছাড়াই ফরিদ তাঁর বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় ফরিদকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান ফারিহা।
মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন বলেন, রাত ১২টার দিকে পুলিশ জাহিদ ব্যাপারীর মৃত্যুর খবর পায়। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।