পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে মৌলভীবাজারের পাড়া-মহল্লার বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে গরু ও মহিষের মাংস বিক্রি হচ্ছে। তবে চড়া দামের এই মাংস এই অঞ্চলের দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। তাই এই ঈদে শখ থাকলেও পরিবারের শিশুসহ সবার মুখে মাংস তুলে দিতে পারছেন না অনেকেই।
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলার বাজারে দেখা যায়, ঈদ ঘিরে গরু ও মহিষের মাংস বেচাকেনা ভালোই চলছে। যে যার ইচ্ছেমতো কেজি হিসেবে মাংস কিনছেন। কেজিপ্রতি মাংস কোথাও ৮০০ টাকা আবার কোথাও ৮৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের লোকজন এসব মাংস বিক্রি দেখলেও তা কেনার সাধ্য নেই বলে জানান। তাঁরা বলেন, জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। চাল-ডাল কেনাটাই তাঁদের জন্য এখন কষ্টসাধ্য, সেখানে গরুর মাংস খাওয়া শুধু স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়। অনেকে তিন-চার মাসেও ব্রয়লার মুরগির মাংস কিনে খেতে পারেন না।
দিনমজুর সমুজ মিয়া বলেন, ‘আমি গত কোরবানির ঈদের দিনে গরুর মাংস খেয়েছি। এরপর ১০ মাস চলে গেলেও আর গরুর মাংস খেতে পারিনি। বাজারে ১ কেজি মাংসের দাম ৮০০ টাকা। আধা কেজির দাম ৪০০ টাকা। সারা দিন কাজ করে চার-পাঁচ শ টাকা ইনকাম করি। দিন শেষে চাল-ডাল নিয়ে বাড়ি ফেরা অনেক কষ্ট হয়। গরুর মাংস খাওয়া তো অনেক বড় বিষয়।’
শ্রমজীবী রফিক মিয়া বলেন, ‘প্রতিবছর কোরবানির ঈদের সময় মাংস খাওয়ার সুযোগ হলেও বছরের বাকি সময়ে আমাদের মতো অনেক মানুষের পাতে মাংস ওঠে না।’
গরুর মাংস বিক্রেতা বেলায়ত মিয়া বলেন, ‘আমাদের কাছে যে যতটুকু মাংস চায়, আমরা তা-ই বিক্রি করি। তবে এখন মাংসের দাম বেড়েছে। কয়েক বছর আগে যেসব মানুষের কাছে ১০-২০ কেজি মাংস বিক্রি করেছি, এসব মানুষ এখন ২-৩ কেজি মাংস ক্রয় করেন। মধ্যবিত্ত কিছু মানুষ মাংস কিনলেও নিম্ন আয়ের লোকজন একেবারে কম মাংস কেনেন।’