দুই দিন ধরে মৌলভীবাজারের আকাশে রোদের ঝিলিক। তাই একটা মুহূর্ত আর নষ্ট না করে কৃষক তড়িঘড়ি শুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন টানা বৃষ্টিতে প্রায় পচে যাওয়া কাটা ধান। তবে হাওরে যেসব ধান পানিতে ডুবে গেছে, সেগুলো আর ঘরে তোলার সুযোগ নেই কৃষকের। হাওরের বাইরের এলাকা থেকে পানি কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ধান কিছুটা হলেও কাটা যাচ্ছে।
হাওর এলাকার কৃষকেরা জানান, সূর্যের তাপ বাড়ায় অনেক কৃষক কাটা ধান শুকাচ্ছেন। নয়তো এই ধানও পচে যেত। যেসব ধান পানির নিচে তলিয়ে আছে, তা আর কখনো পাওয়া যাবে না। কারণ, হাওর অনেকটাই পানিতে টইটুম্বুর। অনেক কষ্ট করে ধান চাষ করে ঘরে তুলতে না পারার আক্ষেপে বেশির ভাগ কৃষকের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। একদিকে ঘরে খাদ্য নেই, অন্যদিকে ফসল হারিয়ে ঋণের চাপ। সব মিলিয়ে বড় অসহায় হয়ে পড়েছেন জেলার ৩০-৩৫ হাজার কৃষক।
সরেজমিন দেখা যায়, জেলার হাকালুকি, কাউয়াদীঘি, হাইল হাওর, কেওলার হাওরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধান নিমজ্জিত রয়েছে। পানি কিছুটা নামতে শুরু করায় কিছু কিছু এলাকায় ধান ভাসতে শুরু করেছে। তবে বেশির ভাগ ধানই নষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘জেলায় ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ধান পচে নষ্ট হয়েছে। ক্ষতির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রায় ২০ হাজার কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাওরের কিছু ধান আর কাটা সম্ভব হবে না।’
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে কৃষকেরা বলেন, জেলায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। হাওর থেকে এই ধান কখনো তোলা সম্ভব নয়। কৃষকের এত ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। হাওরের পর হাওর তলিয়ে গেছে, তবুও কৃষি অফিস ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য উপস্থাপন করছে না। তাঁরা সব সময় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এড়িয়ে যায়। হাওরের ৫০ শতাংশ কৃষক ধান কাটতে পারেননি। অথচ কৃষি অফিস থেকে বলা হচ্ছে ৮৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে হাওরে।
কেওলার হাওরের কৃষক মামুন আহমদ বলেন, ‘কমলগঞ্জের এই হাওরে আমার তিন একর ধানসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষকের ধান আট দিন ধরে পানির নিচে। পানি কমে যাচ্ছে আর পচা ধান দৃশ্যমান হচ্ছে। কৃষকের এত ক্ষতি হয়েছে, যা বলে বোঝানো সম্ভব নয়।’
কাউয়াদীঘি হাওরের কৃষক লিপন মিয়া বলেন, ‘পাঁচ একর জমির মাঝে মাত্র এক একর জমির ধান কেটেছি। বাকি জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। দুই দিন ধরে রোদ থাকায় আধা পাকা কাটা ধান শুকানো যাচ্ছে কিছুটা।’