মেহেরপুরের গাংনীতে আবারও পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় এদের কামড়িয়ে আহত করে কুকুরটি। কুকুরের এই তাণ্ডবে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ জনগণ একটি কুকুর মেরে ফেলে।
পাগলা কুকুরের কামড়ে ওই গ্রামের মো. জিনারুল ইসলাম, ফাতেমা খাতুন, আবেদা খাতুন, রশিদুল ইসলাম, রেকছনা খাতুন, আসলাম হক, আকলিমা খাতুন, নবির হোসেন, জিহাদ আলী, আরিফুল ইসলাম, সাকিবুল হোসেন, জাকির হোসেন, রাফসান আলী, ফাতেমা বেগম, হামিদা খাতুনসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দিনদিন বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মাঝে মাঝেই পাগলা কুকুরের তাণ্ডব লক্ষ করা যাচ্ছে। কিন্তু একসঙ্গে এত মানুষকে আক্রমণের ঘটনা খুব কমই শোনা যায়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর আগে গত জুন মাসে পৌর শহরের ১৭ জন পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হন। প্রশাসনিকভাবে বেওয়ারিশ কুকুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
কুকুরের কামড়ে আহত মো. জিনারুল ইসলাম বলেন, ‘৪-৫ টি বিভিন্ন বয়সী কুকুর অন্তত ২০ জনকে কামড়িয়ে আহত করেছে। কুকুরগুলো বিভিন্ন পাড়ায় দৌড়াদৌড়ি করছে। সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড় দিয়ে আহত করেছে। সরকারিভাবে বেওয়ারিশ কুকুরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন আছে কি না জানি না।’
জিনারুল আরও বলেন, ‘আমি একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছি। ভ্যাকসিনও দিয়েছি।’
আহত আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছি। মানুষের পাশাপাশি ছাগলকেও কামড়িয়েছে। অনেক আগে সরকারিভাবে কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হতো। এখন আর দেওয়া হয় না কেন জানি না।’
স্থানীয় জিনারুল ইসলাম জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রামের বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ে ছোট বড় অন্তত ২০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি খারাপ দেখে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দোকান ও বাসাবাড়িতে আশ্রয় নেয়।’
উপজেলার রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হান্নান খান বলেন, ‘কয়েকটি কুকুর দৌড়াদৌড়ি করে বিভিন্ন মানুষকে কামড়িয়েছে। আমার ছাগলকেও কামড়িয়েছে।’
বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম জানান, ‘বিভিন্ন গ্রামে পাগলা কুকুরের উৎপাত বেড়েছে। আহত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য।’
গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কুকুরের ভ্যাকসিনেশনের বিষয়ে কোনো বরাদ্দ নেই। জলাতঙ্ক রোধে ২০২২ সালে দেশব্যাপী ভ্যাকসিনেশন করা হয়েছিল। এর আওতায় গাংনী উপজেলাও ছিল। তারপর থেকে কুকুরের ভ্যাকসিনেশন বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি।’
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. একরামুল হক বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন রয়েছে। আহতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে হবে।’
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। বেওয়ারিশ কুকুরের বিষয়ে সরকারি বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’