মেহেরপুরের গাংনীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্ধারিত পদযাত্রা ও পথসভাকে ঘিরে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।
আজ সোমবার সকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি ও বিভিন্ন লেখা সংবলিত তিনটি কুশপুত্তলিকা উদ্ধার করা হয়। সেগুলো তারে ঝুলছিল। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সমাবেশস্থলের পাশে পরিত্যক্ত সবজির ব্যাগ থেকে একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় জানান, আজ বিকেলে এনসিপির পদযাত্রা ও পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। এনসিপির শীর্ষ নেতাদের তিনটি কুশপুত্তলিকা ইন্টারনেটের তারের সঙ্গে ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। পরে সেগুলো পুলিশ নিয়ে যায়। এরপরই আবার সমাবেশস্থলের পাশে একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে গাংনী থানা-পুলিশ ব্যাগটি করে নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, সমাবেশস্থলের পাশে পরিত্যক্ত একটি সবজির ব্যাগের ভেতরে বোমাসদৃশ একটি বস্তু দেখতে পেয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে সেটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানান, এর আগে সকালে গাংনী এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি ও বিভিন্ন লেখা সংবলিত তিনটি কুশপুত্তলিকা উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনাতেও তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক ও মেহেরপুর জেলা সমন্বয়কারী শাকিল আহমেদ বলেন, ‘এনসিপির পদযাত্রাকে ঘিরে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে কেন্দ্র করে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ মানুষের মাঝে ভয়ভীতি সৃষ্টি করার জন্য কুশপুত্তলিকা ঝুলিয়েছে। এরপরই আবার সমাবেশ স্থানের পাশে বোমাসদৃশ কিছু একটা রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও চেষ্টা করছে। আমাদের এই অনুষ্ঠানকে বানচাল করার জন্য যতই চেষ্টা করা হোক না কেন অনুষ্ঠান এখানে হবেই। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি করছি।’
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাসদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করেছে। কে বা কারা এ ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হবে। উভয় ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।