মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বানিয়াজুরী-ঘিওর আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ৯ কিলোমিটারজুড়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে সড়কটির যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খানাখন্দের কারণে প্রায় সময়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বাড়ছে জনদুর্ভোগ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বানিয়াজুরী থেকে ঘিওর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বালিয়াখাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় সড়কের একপাশ ধসে নিচু হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
খানাখন্দের অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন ভারসাম্য হারিয়ে প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে এবং যাত্রী ও চালকেরা আহত হচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঘিওর, দৌলতপুরসহ টাঙ্গাইলের হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। অথচ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে এটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
কাউটিয়া গ্রামের বাসিন্দা বারেক বলেন, ‘আমি একবার অটোরিকশায় (স্থানীয়দের কাছে হ্যালোবাইক হিসেবে পরিচিত) করে বানিয়াজুরী থেকে বাড়িতে ফেরার পথে সাতবাড়িয়া এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হই। হ্যালোবাইক উল্টে গিয়ে আমি গুরুতর আহত হই। পা ভেঙে যায়। চিকিৎসার পেছনে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়েছে; যা পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।’
পুরান গ্রামের সুমন দেওয়ান বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নিয়মিত যাত্রী মো. আলম বলেন, শুধু বালিয়াখাড়া বাজার নয়, পুরো সড়কের বিভিন্ন অংশেই একই চিত্র। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও গভীর গর্ত, আবার কোথাও পানি জমে থাকায় সড়কের প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে চালকদের জন্য সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ পথে নিয়মিত চলাচলকারী অটোরিকশাচালক ইমরান মিয়া বলেন, বালিয়াখাড়া থেকে বানিয়াজুরী পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। গাড়ি চালানোর সময় চাকা কখন গর্তে ঢুকে যায় টেরই পাওয়া যায় না।
এদিকে ঘিওর উপজেলা সদরসংলগ্ন মডেল মসজিদ থেকে থানার মোড় পর্যন্ত সড়কের অবস্থাও বেহাল। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বাড়ছে দুর্ভোগ।
বালিয়াখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আওয়াল খান বলেন, সড়কের বিভিন্ন অংশ খানাখন্দে ভরে গেছে। বিশেষ করে বালিয়াখাড়া বাজার এলাকায় একপাশ নিচু হয়ে যাওয়ায় চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক। সড়কের এই ৯ কিলোমিটার অংশে গত ছয় মাসে ছোট-বড় অন্তত অর্ধশত দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সড়কটির বর্তমান খারাপ অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। ইতিমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লি অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় সড়কটি সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।’
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।