ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে ১০ প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী, দলটির এক বিদ্রোহী প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোটের মাঠের হিসাব আরও জটিল করেছেন বিএনপির আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী।
শিবচর উপজেলা নিয়ে গঠিত মাদারীপুর-১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ১৩৩ জন। এই আসন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। এই আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন দলটির নূর-ই-আলম চৌধুরী। কিন্তু পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এবার ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ নেই। ফলে ভোটের হিসাব পাল্টে গেছে এই নির্বাচনে।
এবার এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার, বিএনপির দুই বিদ্রোহী কামাল জামান মোল্লা ও সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলু, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী আবদুল আলী, জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মিন্টু, খেলাফত মজলিসের সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আকরাম হুসাইন, গণঅধিকার পরিষদের রাজিব মোল্লা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী মো. হাফিজুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসান। তাঁদের মধ্যে গণঅধিকারের রাজিব মোল্লা সম্প্রতি কামাল জামান মোল্লাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে ছিল নানা নাটকীয়তা। মনোনয়ন ঘোষণার প্রথম ধাপে একজনকে মনোনয়ন দিয়ে পরে তা বাতিল করা হয়। মনোনয়ন দেওয়া হয় অন্য একজনকে। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল, প্রার্থিতা ফিরে পেতে পক্ষে-বিপক্ষে ছিল সভা-সমাবেশ। এসবকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুজন বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে শিবচরে বহু ভাগে বিভক্ত বিএনপির রাজনীতিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমর্থকগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা ও সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলু এবং বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারকে ঘিরে বিভক্ত নেতা-কর্মীরা।
সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিবচরে সভা-সমাবেশে এগিয়ে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা। জুলাই বিপ্লবের পর থেকে তাঁকে ঘিরে একটি বলয় তৈরি হয়েছে। বিএনপি প্রথমে তাঁকে মনোনয়ন দিলেও পরে তা বাতিল করা হয়। এরপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হন তিনি। নিজস্ব বলয় রয়েছে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলুরও। এদিকে বিএনপির বেশির ভাগ নেতা-কর্মী দলীয় প্রার্থী নাদিরা আক্তারের হয়ে কাজ করছেন। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালারও বিপুল সমর্থন রয়েছে।
মো. মইনুল ইসলাম নামের এক ভোটার বলেন, এই আসনে ভোটের হিসাব বোঝা যাচ্ছে না। পাঁচ নেতার মধ্যে হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে তীব্র লড়াই হবে কামাল জামান মোল্লা, নাদিরা আক্তার ও সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার মধ্যে।
শিবচর থানা সূত্র বলেছে, শিবচরের ১০২ কেন্দ্রের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৬২ কেন্দ্রকে, গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি এবং সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে দুটি।
এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ শব্দটি আমরা ব্যবহার করছি না। তবে ৬২টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ৩ শতাধিক পুলিশ মাঠে থাকবে।’