‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—প্রতিপাদ্যে মাদারীপুরে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা। আজ শুক্রবার সকালে শহরের শকুনি লেকপাড়ের স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। মাদারীপুর জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের আয়োজনে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৩০ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা এই মেলা চলবে।
উদ্বোধন শেষে আগত অতিথিরা মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনা মূল্যে গাছের চারা বিতরণ করেন।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, বাহারি টপে সারি সারি সাজানো দেশি-বিদেশি ফুল ও ফলের চারা। বাসাবাড়ির ছাদে ফুল ও ফলের বাগান করতে অনেকে কিনছেন চারা। অস্ট্রেলিয়ান কিং অব ম্যাঙ্গো, সূর্যডিম, ব্যানানা, কিউজাই ও মিয়া-বিবিসহ বিভিন্ন প্রকারের আমের চারার দেখা মিলছে মেলায়। এ ছাড়া টগর, ডালিয়া, গোলাপ, রজনীগন্ধাসহ নানা ফুলের সমাহার। রয়েছে ঔষধি গাছের চারা। মেলাকে ঘিরে স্টলে ভিড় করছেন বৃক্ষপ্রেমীরা। পছন্দের গাছের চারা সুলভ মূল্যে কিনতে পেরে খুশি তাঁরা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। তাই নার্সারিতে নয়, বিভিন্ন মেলায় গাছের চারা বিক্রিতে উৎসাহ বাড়ছে নার্সারির মালিকদের।
আয়োজকেরা জানান, মেলায় ফুল-ফল, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা ঠাঁই পেয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েক হাজার বৃক্ষরোপণ অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর অনুমতি ছাড়া কেউ গাছ কর্তন করলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক বন বিভাগ মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রতিবছরই এমন বৃক্ষমেলার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ। এতে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ নতুন নতুন বৃক্ষের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। বৃক্ষরোপণেও তারা আগ্রহ পাচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন হওয়ায় সবার উচিত বেশি বেশি করে বৃক্ষরোপণ করা।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার, সিভিল সার্জন শরীফ আবেদিন কমল, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মণ, সামাজিক বন বিভাগ ফরিদপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাদারীপুরের অতিরিক্ত উপপরিচালক জিবাংশু দাস, সামাজিক বন বিভাগ মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।