হোম > সারা দেশ > মাদারীপুর

প্রশান্তির খোঁজে পদ্মাপাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়

ইমতিয়াজ আহমেদ, শিবচর (মাদারীপুর) 

মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মাপাড় লোকে লোকারণ্য। গতকাল বিকেলে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঈদের ছুটি হোক কিংবা বছরের সাধারণ কোনো দিন—প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মাপাড়। বিকেল গড়াতেই নদীশাসন বাঁধজুড়ে জমে ওঠে আড্ডা, ঘোরাঘুরি আর নদীভ্রমণের আয়োজন। কেউ বসে গল্পে মেতে ওঠেন, কেউ নৌকায় ভেসে বেড়ান পদ্মার বুকে, আবার কেউ দলবেঁধে নদী পেরিয়ে চলে যান চরাঞ্চলে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘শুধু ঈদের সময় নয়, সারা বছরই এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকে। অনেকেই নদীতে নৌকা ভ্রমণ করেন, আবার কেউ চরাঞ্চলে গিয়ে সময় কাটান।’

স্থানীয়দের মতে, পদ্মা সেতু নির্মাণের পর সেতু এলাকা থেকে শিবচরের মাদবরেরচর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার নদীতীরে নদীশাসন বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকেই এলাকাটি ধীরে ধীরে দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। নিরিবিলি পরিবেশ, নদীর মনোরম দৃশ্য এবং মৃদুমন্দ বাতাসের কারণে প্রতিদিনই এখানে মানুষের সমাগম বাড়ছে।

সোমবার (১ জুন) বিকেলে কাওড়াকান্দি ঘাটসংলগ্ন পদ্মাপাড় ঘুরে দেখা যায়, নদীশাসন বাঁধের পুরো এলাকাজুড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়। ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে নদী ভ্রমণ করছেন অনেকে। দর্শনার্থীদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ভাসমান দোকানপাট। খোলা চরে বসেছে অস্থায়ী মেলাও। অনেক তরুণকে নদীর পানিতে নেমে আনন্দ করতে দেখা যায়।

নদীশাসন বাঁধজুড়ে জমে ওঠে আড্ডা, ঘোরাঘুরি আর নদীভ্রমণের আয়োজন। ছবি: আজকের পত্রিকা

কলেজ শিক্ষার্থী মো. হৃদয় বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পদ্মাপাড় অনেকটা কক্সবাজার বা কুয়াকাটার মতো অনুভূতি দেয়। শিবচর ও আশপাশে তেমন কোনো বিনোদনকেন্দ্র নেই। তাই দিন দিন পদ্মার পাড়ই মানুষের প্রধান বিনোদনের স্থান হয়ে উঠছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মইন বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে পদ্মাপাড়ে ঘুরতে এসেছি। এখানে সূর্যাস্তের দৃশ্য খুবই মনোমুগ্ধকর। নদীর পানিতে লাল আভা ছড়িয়ে সূর্য ডুবে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে দারুণ লাগে।’

স্থানীয় নৌকার মাঝিরা জানান, দর্শনার্থীদের জন্য ছোট ডিঙি নৌকা ভাড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ নিজেরা নৌকা চালান, আবার কেউ মাঝির সহায়তায় নদী ভ্রমণ করেন। বিশেষ করে ঈদের সময় নৌকা ভ্রমণের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

কেউ নৌকায় ভেসে বেড়ান পদ্মার বুকে, আবার কেউ দলবেঁধে নদী পেরিয়ে চলে যান চরাঞ্চলে। ছবি: আজকের পত্রিকা

এদিকে পদ্মাপাড়কে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে শিবচর উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের উদ্যোগে ১ হাজার ৩০০ গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কাওড়াকান্দি ঘাট এলাকার নদীশাসন বাঁধ থেকে নাওডোবা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, কদম, জারুল, সোনালু ও পলাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হচ্ছে।

ভ্রমণপ্রেমীদের আশা, গাছগুলো বড় হয়ে উঠলে পদ্মার পাড় আরও দৃষ্টিনন্দন ও ছায়াঘেরা পরিবেশে রূপ নেবে। একদিকে পদ্মার টলমলে জলরাশি, অন্যদিকে সারি সারি গাছ—সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠবে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘পদ্মাপাড়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে গাছ লাগানোর কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে গাছ রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি এলাকার সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’

মাদারীপুরে বোরকা পরে হামলা করতে গিয়ে পাল্টা হামলায় যুবক নিহত, আহত ৩

শিবচরে বিদ্যুতায়িত হয়ে যুবকের মৃত্যু

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও পদ্মাপাড়ে ইলিশ কেনাবেচার মহোৎসব

প্রেমের টানে চীনা যুবক মাদারীপুরে, ধর্মান্তরিত হয়ে করতে চান বিয়ে

পদ্মায় ইলিশ ধরায় ১০ জেলের কারাদণ্ড, দেড় লাখ মিটার জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

মাদারীপুরে জব্দ করা ১০ হাজার কেজি পলিথিন নিলামে বিক্রি

মাদারীপুরে মাদক বিক্রির টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ

শকুনি লেক রক্ষায় মানববন্ধন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি

দালালের মাধ্যমে ইতালিযাত্রা, লিবিয়ায় নিখোঁজ শিবচরের লিমন

বালতির পানিতে পড়ে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু