হোম > সারা দেশ > লক্ষ্মীপুর

আমার মা ও বোনের হত্যার বিচার চাই: শিফাত

লক্ষ্মীপুর ও রায়পুর প্রতিনিধি 

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের ধানহাটা সড়কে মা ও মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘আমার মা ও তিন বোনের হত্যার বিচার চাই। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’ মা ও তিন বোনের জানাজা শেষে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই বিচারের দাবি জানাচ্ছিলেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হত্যাকাণ্ডের স্বীকার পরিবারের একমাত্র বেঁচে যাওয়া জুনায়েদ ইসলাম শিফাত।

আজ শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের ধানহাটা সড়কে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো নিয়ে কুমিল্লার মনোহরপুর পৌরসভার লটিয়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন স্বজনেরা।

অপরদিকে গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারের মরদেহ এখনো পড়ে রয়েছে হাসপাতালের হিমঘরে। তাঁর স্বজনেরা এখনো হাসপাতালে আসেননি বলে জানান সদর হাসপাতালের ডাক্তার অরূপ পাল।

গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (৩০) নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। তিনি সদরের উত্তর তেহমনি এলাকার খোরশেদের ফলের আড়ত থেকে ফল ক্রয় করে রায়পুর শহরে বিক্রি করতেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকার ভাড়া বাসায় ঢুকে অন্তর মজুমদার শাহীনুর বেগম (৪০) এবং তাঁর তিন মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (১৮), ইকরা আক্তার ও শিফা আক্তারকে (৯) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম ও সায়মা আক্তার নিহত হন। গুরুতর আহতাবস্থায় শিফা আক্তারকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে তিনি মারা যান। অপর গুরুতর আহত ইকরা আক্তারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

মা ও তিন মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত

এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে নিহত শাহীনুর বেগমের ছেলে শিফাত বাদী হয়ে নিহত অন্তর মজুমদারসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে রায়পুর থানায় পৃথক একটি হত্যা মামলা করেছেন।

ঘটনার দিন অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে উদ্ধার করতে গিয়ে সাত পুলিশ সদস্যকে ইট পাটকেল নিক্ষেপে আহত করা হয়। এ ঘটনায় রায়পুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন।

রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানাচ্ছি। আমরা শিফাতের দায়িত্ব নিয়েছি।

শাহীনুর বেগমের বাবা দাদন মিয়া বলেন, কার কাছে বিচার চাইব? কে বিচার করবে? আমার মেয়ে ও তিন নাতনির কোনো শত্রু ছিল না।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, এ ঘটনায় থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহত শাহীনুর বেগমের ছেলে শিফাত হোসেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) আবদুর রাশেদ বলেন, এখন পর্যন্ত এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে তুলকালাম, বর-কনেপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

লক্ষ্মীপুরে বিলে খেলতে নেমে পানিতে ডুবে শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু

পল্লী বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে স্কুলছাত্রী বিদ্যুতায়িত

আগুনে পুড়ে ছাই ৩০ বছরের সঞ্চয়, স্বপ্ন হারিয়ে কাঁদছেন শামসুন্নাহার

ছড়িয়ে পড়েছে ‘চায়না দুয়ারি’ জাল, হুমকিতে জলজ জীববৈচিত্র্য

লক্ষ্মীপুরে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরে হত্যা মামলায় জামায়াত নেতা কারাগারে

ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগ বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে, বিচার চাইলেন বৃদ্ধ বাবা

স্বপ্ন ফিরল কফিনে, লক্ষ্মীপুরে সহোদরকে চিরবিদায়

ভরা মৌসুমেও মেঘনায় ইলিশের আকাল, হতাশ জেলে-ব্যবসায়ীরা