লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ইটভাটায় কাজ না করায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এক শ্রমিককে দুই হাত বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে ভাটার সর্দারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শ্রমিক উপজেলার চরকাদিরার চরবসুর বাদামতলী এলাকা বাসিন্দা কালু মিয়া (৪০)। অভিযুক্ত ইটভাটার সর্দারের নাম ইসমাইল হোসেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ফজুমিয়ার হাটের স্লুইসগেট এলাকায়। আজ শুক্রবার সন্ধ্যার পর এ ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
নির্যাতনের শিকার শ্রমিকের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, ৬ মাসের জন্য বছরের শুরুতে ৮০ হাজার টাকায় শ্রমিক কালু মিয়াকে কিনে নেয় ইটভাটার সর্দার ইসমাইল হোসেন। সে অনুযায়ী চট্টগ্রামের একটি ইটভাটার শ্রমিকের কাজ করতেন কালু। কিছুদিন আগে অসুস্থতার কারণে বাড়িতে চলে আসেন কালু মিয়া। এরপর শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্বশুরবাড়ি থেকে ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে ধরে নিয়ে যান। এরপর ইসমাইল হোসেনের অফিসে নিয়ে দুই হাত ওপরে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে কালুকে এলোপাতাড়ি পেটান ইসমাইল। পরে কালু তার পরিবর্তে তার ভাইদের মাধ্যমে কাজ করে দিতে স্বীকারোক্তি নেন ইসমাইল।
মারধরে একপর্যায়ে কালু অসুস্থ হয়ে পড়লে এ ঘটনার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে না বলে সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় নানা সমালোচনা শুরু হয়। সর্দার ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘কালুকে বছরের শুরুতে ৮০ হাজার টাকায় চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতে নেওয়া হয়। শুরু থেকে সে ঠিকমতো কাজ করছে না। প্রায়ই নানা অজুহাতে ভাটার কাজ ফেলে চলে আসে। তবে দুই হাত বেঁধে ঝুলিয়ে রাখলেও বেশি মারধর করা হয়নি। ভয় লাগানোর জন্য সামান্য কয়েকটি বেত্রাঘাত করেছি।’ তবে কোন ইটভাটায় ওই শ্রমিককে কাজ দেওয়া হয়েছে, তা বলতে রাজি নন ইসমাইল হোসেন।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন-অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ করলে প্রচলিত আইনে অপরাধীর বিচার হবে। এ বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে না। ’