কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ৭৯ নম্বর কোদালিয়া (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ৪২৬ শিক্ষার্থীর পাঠদান। জরাজীর্ণ আর স্যাঁতসেঁতে ভবনের দেয়াল থেকে মাঝেমধ্যেই খসে পড়ছে পলেস্তারা। এদিকে বৃষ্টির পানিতে সয়লাব শ্রেণিকক্ষের মেঝে। এর মধ্যেই ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে ছোট শিশুরা। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকেরা।
সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুটি ভবনের মধ্যে একটি টিনশেড হাফ বিল্ডিং। এর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। টিনের চালার ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ভিজে যায় শিশুদের জামা, কাপড়, বই ও খাতা। সেই পানির মধ্যেই বসে ভিজে ভিজে ক্লাস করে শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের সামনেই রয়েছে একটি বড় পুকুর, যা বর্ষা মৌসুমে ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করেছে।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস তোয়া বলেন, ‘বৃষ্টি শুরু হলেই আমাদের ভয়ের সীমা থাকে না। চালার ফুটো দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। ক্লাসরুমের ভেতর পানি জমে কাদা হয়ে থাকে, সেই অবস্থাতেই আমাদের বসে থাকতে হয়। আমাদের খুব ভয় লাগে কখন মাথার ওপর টিন বা চালা ভেঙে পড়ে।’
অভিভাবক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরা বাড়িতে দুশ্চিন্তায় থাকি। একদিকে জরাজীর্ণ ভবন, অন্যদিকে স্কুলের একদম সামনেই বিশাল পুকুর। বর্ষাকালে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বড় দুর্ঘটনার ভয় হয়। দ্রুত একটা নতুন ভবন না দিলে আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও সাহস পাচ্ছি না।’
বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী ৪২৬ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন ১১ জন। প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা—প্রাক্-প্রাথমিক দুই শাখায় ৬০ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৬৭ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৬৫ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৭৮ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৮৪ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৭২ জন।
বিদ্যালয়ে আটটি শ্রেণিকক্ষ থাকলেও টিনশেড কক্ষগুলোতে ঝড়, বৃষ্টি বা প্রচণ্ড রোদের সময় ক্লাস নেওয়া এখন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছাবিয়া ইয়াছমিন বলেন, ‘বিদ্যালয়টি সেই ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে এর কাঠামো এখন পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ ও ভাঙা কক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তা ছাড়া শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা কম। একটি নতুন ভবন অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি আরও জানান, শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে অন্য বিদ্যালয় থেকে চেয়ার-টেবিল এনে ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস বলেন, ‘খবর পেয়ে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে এসেছি এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’