কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে তিন মাস মেয়াদি বিশেষ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চালের পাশাপাশি ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া হবে।
আজ মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের বড় হাওর এলাকা পরিদর্শন শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ কথা জানান।
মো. সাইদুর রহমান খান জানান, প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে মন্ত্রণালয় থেকে কৃষকদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে এই সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা মাসে ২০ কেজি করে চাল পাবেন। পাশাপাশি যাঁরা সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁরা সাড়ে সাত হাজার টাকা, মধ্যম ক্ষতিগ্রস্তরা পাঁচ হাজার ও স্বল্প ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা আড়াই হাজার করে নগদ টাকা পাবেন। এই সহায়তা কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে টানা তিন মাস চলবে।
বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ কার্ডের ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করে সাইদুর রহমান বলেন, ‘প্রকৃত কৃষকেরা যাতে সহায়তা পান, সে জন্য সঠিক তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
‘আজ সুনামগঞ্জে কৃষিমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এই কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নেত্রকোনায় এবং আমি নিজে কিশোরগঞ্জের মাঠপর্যায় পরিদর্শন করেছি। এখান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।’
তালিকা প্রণয়ন নিয়ে সচিব বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজার, উপজেলা ও জেলা কমিটি এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। অনেক সময় তালিকা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে, তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কয়েক দফায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সাইদুর রহমান আরও জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ও কৃষকদের সহায়তায় আলাদাভাবে কাজ করছে।
এলাকাটিকে দুর্যোগকবলিত ঘোষণা করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে তবেই দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং শর্ত অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।