খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে শিশুটিকে হাসপাতালের হামের আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করানোর কয়েক ঘণ্টার পর মারা যায়।
এ নিয়ে খুলনাঞ্চলে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০টি শিশু মারা গেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৫টি শিশু। হাসপাতালে ভর্তি আছে ৭৯৯টি শিশু এবং চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছে ৫৭৬টি।
খুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুই বছরের শিশুটির নাম চাঁন। বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোলাম রসুল ও ইয়াসমীন বেগম দম্পতির শিশুসন্তান চাঁনকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ২টার দিকে সে মারা যায়।
খুমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সৈয়েদা রুখশানা পারভীন শিশুটির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে এ বছর কুষ্টিয়া জেলায় ৮ জন, খুলনায় ২ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। খুলনায় যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা ঝিনাইদহ থেকে চিকিৎসা নিতে এসেছিল। এ ছাড়া নতুন করে হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৫১ জন।
জানতে চাইলে খুমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সৈয়েদা রুখশানা পারভীন বলেন, সকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশু চাঁনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু খুবই অপুষ্টিতে ভোগা শিশুটি একেবারেই মুমূর্ষু অবস্থায় আনা হয়। এই ২৩ মাসের মধ্যে শিশুটিকে বেশ কয়েকটা টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও তাকে এখন পর্যন্ত কোনো টিকা দেওয়া হয়নি। এখানে আসার পর সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে; কিন্তু বেলা ২টার দিকে শিশুটি মারা যায়।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মুজিবর রহমান জানান, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৫১টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটের ১টি, যশোরে ২৪, ঝিনাইদহে ৮, খুলনায় ৬, কুষ্টিয়ায় ৩, মাগুরায় ৫ ও নড়াইলে ৪ জন রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও সাতক্ষীরায় নতুন রোগী আসেনি।