জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) আটা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাসহ তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে তাঁদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বরখাস্ত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ, খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।
জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ জানান, অভিযোগ পেয়ে গত মঙ্গলবার তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তেই আটা আত্মসাৎ এবং দায়িত্বে অবহেলার সত্যতা পাওয়া যায়। এরই ভিত্তিতে গতকাল বুধবার মহাপরিচালকের নির্দেশে অভিযুক্ত তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
শাকিল আহমেদ আরও বলেন, ‘তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জালিয়াতি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য দুই টন আটা ও দুই টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। সরকারের এই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকায় ৫ কেজি আটা ও ৫ কেজি চাল কিনতে পারেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন দুই টন আটার বিপরীতে বিক্রয়কেন্দ্রে ৪০ বস্তা আটা থাকার কথা থাকলেও সেখানে রাখা হয় মাত্র ২০ বস্তা। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সুবিধাভোগী আটা না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান। গত সোমবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
এই নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের কার্যালয়ে যান। সেখানে গোপনে ধারণ করা ভিডিওতে ওই কর্মকর্তাকে বিষয়টি নিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা, কয় টন বরাদ্দ, এত দিন পর আচ্ছে। সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই। যা হবে ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলেমিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।’
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।