ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হওয়া এ ঘটনায় ১৫টিরও বেশি বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় অন্তত ১৬ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৪০ জনকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষ্ণুপুর গ্রামের ইউপি সদস্য কপিল উদ্দিন এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ ক্রমে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয়দের দাবি, আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির জেরে সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে লাঠিসোটা, ইটপাটকেল ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্তত ১৫টি বাড়িঘরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়।
পরে খবর পেয়ে শৈলকুপা থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে।
শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন বলেন, “বিষ্ণুপুর গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক আহত ব্যক্তি হাসপাতালে এসেছেন। অনেকে ভর্তি রয়েছেন, আবার অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। গুরুতর আহত অন্তত ১৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, “সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ এখনো থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি।”
ইউপি সদস্য কপিল উদ্দিন এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।