যশোরের মনিরামপুরে তৃতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। গত শুক্রবার রাতে দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ের বোর্ডে মনিরামপুরের ১৬টি ইউনিয়নের প্রার্থীর তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে ২১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ তালিকা চূড়ান্ত হয়।
মনোনয়ন পাওয়াদের মধ্যে নতুন-পুরোনোর মিশ্রণ ঘটেছে। পাঁচটি ইউনিয়নে নতুন মুখ দেখা গেছে। এর মধ্যে একটিতে নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন। বাকি ১১টি ইউনিয়নে গতবার যাঁরা মনোনয়ন পেয়েছিলেন তাঁদেরই নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
নতুন মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন—১ নম্বর রোহিতায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজ উদ্দিন, ২ নম্বর কাশিমনগরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, ৩ নম্বর ভোজগাতী ইউনিয়নে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী আসমাতুন্নাহার, ১২ নম্বর শ্যামকুড় ইউনিয়নে ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন ও ১৩ নম্বর খানপুরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিলন।
এ ছাড়া ৪ নম্বর ঢাকুরিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান এরশাদ আলী সরদার, ৫ নম্বর হরিদাসকাটি ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিপদ ভঞ্জন পাড়ে, ৬ নম্বর মনিরামপুর সদরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ব্যবসায়ী এয়াকুব আলী, ৭ নম্বর খেদাপাড়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আলিম জিন্নাহ, ৯ নম্বর ঝাঁপা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সামছুল হক মন্টু, ১০ নম্বর মশ্মিমনগর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, ১১ নম্বর চালুয়াহাটিতে উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবুল ইসলাম, ১৪ নম্বর দূর্বাডাঙা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মাজহারুল আনোয়ার, ১৫ নম্বর কুলটিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র রায়, ১৬ নম্বর নেহালপুর ইউনিয়নে জেলা পরিষদের সদস্য এম এম ফারুক হুসাইন ও ১৭ নম্বর মনোহরপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মশিয়ূর রহমান মনোনয়ন পেয়েছেন।
এদের মধ্যে আব্দুল আলিম জিন্নাহ ও আবুল ইসলাম গেলবার নৌকা পেয়েও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। আর এয়াকুব আলী ও ফারুক হুসাইন ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে হেরে যান। এদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, মনিরুজ্জামান মনি ও গাজী মোহাম্মদ আলী আসন্ন নির্বাচনে নৌকা না পাওয়ায় তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এর আগে ইউনিয়নভিত্তিক দলের বর্ধিত সভায় ১২৮ জন নৌকা প্রত্যাশীর নাম জমা পড়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের হাতে। সেই তালিকা রেজুলেশন আকারে কেন্দ্রে জমা পড়ে। তাঁদের মধ্যে কেন্দ্র থেকে ৯০ জন নৌকার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।