যশোরের মনিরামপুরের ৭ নম্বর খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে দীর্ঘ দিন পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে ত্রাণের চাল। চার থেকে পাঁচ মাস আগে লকডাউনের সময় কর্মহীন, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য চালগুলো দিয়েছিলেন সরকার। কিন্তু লকডাউন পার হয়ে তিন থেকে চার মাস স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু হলেও সেই চাল বিতরণ করেননি পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিব।
আজ শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, পরিষদের গুদামে ৫০ কেজি ওজনের ৫৫ থেকে ৬০টি চালভর্তি বস্তা পড়ে আছে। ছেঁড়া বস্তার ভেতরে চালে পচন ধরে কালো রং ধারণ করেছে। চালগুলোর ওজন আনুমানিক আড়াই থেকে তিন মেট্রিক টন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার থেকে পাঁচ মাস আগে করোনাকালীন বিতরণের জন্য চালগুলো দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিব চালগুলো দুস্থদের মাঝে বিতরণ না করে গুদামজাত করে রেখেছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু এ চাল নয় করোনায় আক্রান্ত হয়ে লকডাউনে থাকা ব্যক্তিদের সাহায্যে উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া অন্তত ২০০ কেজি চাল পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষের পাশের একটি কক্ষে। এ ছাড়া সচিবের কক্ষের পেছনের কক্ষে বিতরণ না করে শিশুখাদ্য দুধ ফেলে রাখা হয়েছে।
সচিব বলেন, সামনে নির্বাচন। এ সব নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটির দরকার নেই।
খেদাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, চালগুলো কিসের বলতে পারব না। রোববার পরিষদে গিয়ে চাল বিতরণের ব্যবস্থা করব।
মনিরামপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম শিকদার বলেন, জুলাই মাসের দিকে করোনার চাল চেয়ারম্যানদের কাছে দেওয়া হয়েছিল।
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
মনিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, গুদামে কেন চাল পচানো হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে রোববার সরেজমিন খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে যাব।