বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ‘খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে, যা পরে দেশের কৃষিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের পর এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের বাইরের সময়গুলোতে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে এই কর্মসূচি চালু রাখা হয়নি।’
তিনি বলেন, খাল খনন করলে মানুষের মনে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা ভেসে উঠবে—এই সংকীর্ণ চিন্তার কারণেই পরবর্তী সরকারগুলো কর্মসূচিটি চালু রাখেনি। এতে দেশের জনগণের ক্ষতি হয়েছে। তবে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগণের স্বার্থে আবারও খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
শনিবার সকালে যশোরের কেশবপুর উপজেলার বুরুলি খালের তিন কিলোমিটার পুনঃখননকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী অমিত আরও বলেন, সরকার এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্টের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে কাজ করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে এই অঞ্চলে ৮১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদ-নদী পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ভবদহ এলাকায় বিদ্যমান ২১টি অভ্যন্তরীণ খাল পুনঃখননের কার্যক্রমও চলছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ভবদহের ২১ ভেন্টের স্লুইসগেটের মধ্যে ১৭টি কপাট খুলে দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের সভাপতিত্বে কেশবপুর উপজেলার বুরুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মামুনুর রশিদ, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী, প্রভাষক জুলমাত আলী ও এম এ আলিম প্রমুখ।
আলোচনা শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুরুলি খালের মাটি কেটে পুনঃখননকাজের উদ্বোধন করেন। খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে উপজেলার বুরুলি, পাথরা, পাঁজিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও কৃষ্ণনগর বিলের পানি সহজে আপার ভদ্রা নদীতে নিষ্কাশিত হবে।
খালটি পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এত দিন ওই এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। ফলে স্থানীয় কৃষকেরা ফসল উৎপাদনে ক্ষতির মুখে পড়তেন।