চার কোটি টাকা চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে করা দুটি মামলায় যশোরের নওয়াপাড়ার পদ স্থগিত হওয়া বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে অভয়নগর আমলি আদালতের বিচারক জুবাইদা রওশন তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে খুলনা শহরের রোজ গার্ডেন হোটেল থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর সহযোগী তুহিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জনিকে নিয়ে তাঁর মালিকানাধীন কণা ইকোপার্ক ও বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, যেমন চাপাতি, ছুরি, হাঁসুয়া ও বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই এবং সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, আজ জনিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে করা দুটি মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে জনির কণা ইকোপার্কে জিম্মি করে চার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। টিপুর স্ত্রী আসমা খাতুন এ ঘটনায় চলতি বছরের ২ আগস্ট জনিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জনি তাঁর সহযোগীদের নিয়ে টিপুকে মারধর করেন এবং বালুর গর্তে পুঁতে ফেলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। টিপুর স্ত্রী প্রথমে জনির অ্যাকাউন্টে ২ কোটি টাকা পাঠান এবং পরে আরও ২ কোটি টাকা জনির এক সহযোগীর অ্যাকাউন্টে দিতে বাধ্য হন। এ মামলায় ইতিমধ্যে জনির বাবা কামরুজ্জামান ও আরও এক আসামি মিঠুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
আসাদুজ্জামান জনি নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন, কিন্তু দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাঁর পদটি স্থগিত করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি মূর্তিমান আতঙ্ক ছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো হলো মারধর ও ছিনতাই, জমি ও ঘাট দখল, শ্রমিকদের ওপর হামলা, অস্ত্র ও মাদক কারবার ইত্যাদি।