ভারতীয় এক তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের এক কলেজছাত্রকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। কারাগারে পাঠানো শিক্ষার্থীর নাম মোস্তাফিজুর রহমান মেহেদী (১৯)। তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কালিকাপুর এলাকার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে।
গতকাল বুধবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জামালপুর জেলা পুলিশ। এর আগে একই দিন বিকেলে জামালপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংশ্লিষ্ট বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় অভিযুক্ত মেহেদীর। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাঁরা একে অপরকে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠাতে থাকেন। পরবর্তীকালে ওই তরুণীর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন মেহেদী। একই সঙ্গে ছবি ও ভিডিওগুলো তরুণীর স্বজনদের কাছেও পাঠিয়ে দেন তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি পরবর্তীকালে জামালপুর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হলে গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর গত মঙ্গলবার রাতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি-১) শাখার একটি টিম দেওয়ানগঞ্জের কালিকাপুরে অভিযান চালিয়ে মেহেদীকে আটক করে এবং তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করে।
জামালপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি-১) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে। ওই মামলায় মেহেদীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’