জ্বালানি তেল না পেয়ে গোপালগঞ্জে সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। আজ বৃহস্পতিবার শহরের মান্দারতলা এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে তারা।
এ সময় মহাসড়কের দুপাশে অর্ধশতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। তবে পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর থানার উপপরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, ‘ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে—এমন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে ও গাছের গুঁড়ি সরিয়ে দিয়ে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে দিই। বর্তমানে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’
জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে গোপালগঞ্জের পৌর এলাকার সাতটি ফিলিং স্টেশনে ভোর থেকে তেল দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা তেলের জন্য অপেক্ষা করেন গাড়িচালকেরা। কিন্তু তেল না পেয়ে আজ বেলা পৌনে ৩টার দিকে মান্দারতলা এলাকায় নিগি ফিলিং স্টেশনের সামনে গাছের গুঁড়ি ফেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এতে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ অবরোধকারীদের বুঝিয়ে ও গাছের গুঁড়ি সরিয়ে এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে দেয়। এতে মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পরে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার আহমেদ এবং ফারদিন খান প্রিন্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তেল সরবরাহ কার্যক্রম তদারকি করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অবরোধকারীদের অভিযোগ, ফিলিং স্টেশনগুলো তেল থাকার পরও তাঁদের তেল দেওয়া হচ্ছে না। তেল নিতে ভোর থেকে অপেক্ষা করেন তাঁরা। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরিসহ জনজীবনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
জানতে চাইলে স্থানীয় নিগি ফিলিং স্টেশনের মালিক মফিজুর রহমান লফিজ বলেন, গভীর রাত পর্যন্ত তেল দিতে গিয়ে পাম্পের কর্মচারীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এমনকি কর্মচারীরা চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে তেল বিতরণ কার্যক্রম করা যাচ্ছে না।