ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শিল্পাঞ্চলখ্যাত গাজীপুরে ইতিমধ্যে ধাপে ধাপে ৯০ শতাংশ পোশাক কারখানা ছুটি হয়েছে। ফলে মহাসড়ক-রেলপথে এখন ঘরমুখী মানুষের ঢল। এদিকে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তির পাশাপাশি পরিবহন-সংকটসহ বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ যাত্রীদের।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে গাজীপুর মহানগরীতে ২ হাজার ৬৭৪টি কারখানা চালু রয়েছে।
গতকাল সোমবার থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবারও পরিস্থিতি একই রকম। বিশেষ করে, উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোয় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ লক্ষ করা যায়। বেলা সাড়ে ১১টার পর টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তি বাড়ে ঘরমুখী মানুষের।
সরেজমিনে জয়দেবপুর জংশনে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মজুড়ে নারী-শিশুসহ শত শত যাত্রী ট্রেনের অপেক্ষায় অবস্থান করছে। কেউ ব্যাগ-বস্তা নিয়ে বসে আছে, কেউ আবার বৃষ্টিতে ভিজে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
এদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জয়দেবপুর চৌরাস্তায় ইপিলিয়ন পোশাক কারখানার শ্রমিক মাসুদা বেগম বলেন, ‘আমাদের কারখানা গতকাল ছুটি হয়েছে। আজ পাবনা যাব। মহাসড়কে অনেক ভিড়, ব্যাগ-বস্তা নিয়ে চলাচল করতে খুব সমস্যা হচ্ছে।’
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান, সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় যানজট ছিল। পরে বৃষ্টির কারণে যানবাহনের গতি আরও ধীর হয়ে যায়। ভোগড়া এলাকায় পানি জমেছে। পাশাপাশি কারখানা ছুটি শুরু হওয়ায় সড়কে যানবাহনের চাপও বাড়ছে। তবে দুপুর পর্যন্ত বড় ধরনের যানজট হয়নি।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান বলেন, গতকাল প্রায় ৪০ শতাংশ কারখানা ছুটি হয়েছিল। আজ আরও প্রায় ৫০ শতাংশ কারখানায় ছুটি শুরু হয়েছে। ফলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। বাড়তি ভাড়া ও অনিয়মের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।