গাজীপুরের শ্রীপুরে কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চারটি পোশাক কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলায় ১ হাজার ১০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) মো. শহিদুল ইসলাম, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন) মো. ফারুক মিয়া এবং ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু সামা মল্লিক বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন।
নিহত লিজা বেগম (৩৭) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হুগলাবানিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার কড়ইতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড কারখানায় অসুস্থ হয়ে লিজা বেগমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর একটি চক্র শ্রমিকদের উসকে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিলসহ পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা এলাকার ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, কেওয়া এলাকার ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেড, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড এবং সিআরসি অ্যাপারেল কারখানায় হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
হামলাকারীরা শ্রমিক পরিবহনের বাস, প্রাইভেট কার এবং পণ্যবাহী কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে চারটি কারখানার কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন।
মামলায় ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেডে হামলার ঘটনায় ৩০০ জন, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেডে ৫০০ জন এবং ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডে হামলার ঘটনায় আরও ৩০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ২০০ থেকে ৩০০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানায় হামলা চালায়। তারা প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কারখানার সামনে ও ভেতরে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন) মো. ফারুক মিয়া জানান, প্রায় ৫০০ জনের একটি দল কারখানার প্রধান ফটকে এসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে তাঁদের মারধর করা হয়। পরে হামলাকারীরা ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে সাততলা ভবনের প্রায় সব ফ্লোরে ভাঙচুর চালায়। কম্পিউটার রুমসহ বিভিন্ন বিভাগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, এ ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের অধিকাংশই দুষ্কৃতকারী। কিছু শ্রমিক থাকলেও তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর শ্রমিক নন। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে।