গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরও একে একে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ দল।
এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) ছয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। তারা আক্রান্তদের চিকিৎসা, ভ্যাকসিন প্রয়োগ এবং পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক জানান, বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মৃতদের পরিবার, স্বজন ও আহতদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি হাসপাতালের নথিপত্র, চিকিৎসা ইতিহাস, টিকা প্রদান রেকর্ড ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, র্যাবিস প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা প্রটোকল সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং গুরুতর কামড়ের ক্ষেত্রে র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (আরআইজি) দেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ দল হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করেছে। তারা বলেছে, সব তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে এবং পরে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত মাসের ২২ তারিখে কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নে বেওয়ারিশ কুকুরের হামলায় নারী, শিশু, পুরুষসহ ২১ জন আহত হন। পরে চিকিৎসা নেওয়ার পরও নন্দ রানী, মোছা. সুলতানা বেগম, মো. ফুল মিয়া, মোছা. আফরোজা বেগম ও রতনেশ্বর কুমারসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়, যা এলাকায় চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।