ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পূর্বশত্রুতার জেরে হায়দার মুন্সি (৩৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় তাঁর ছোট ভাই সুজন মুন্সি (২৬) বাধা দিতে গিয়ে আহত হন।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ফাজিলখাঁর ডাঙ্গী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত দুই ভাই ওই গ্রামের ধলা মুন্সির ছেলে। গুরুতর আহত হায়দার মুন্সি পেশায় রাজমিস্ত্রি।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা বিভাগের চিকিৎসক রশিদ জানান, হায়দার মুন্সির অবস্থা সংকটাপন্ন। তাঁর দুই হাত ও একটি পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। এর মধ্যে একটি হাত ও একটি পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
আহত ব্যক্তিদের পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের ইসলাম মন্ডলের ছেলে কালাম মন্ডলের (৩৫) সঙ্গে হায়দার মুন্সির দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। প্রায় তিন বছর আগে একটি মামলায় তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন কালাম। সেই বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে শনিবার সন্ধ্যায় ডেকে নিয়ে কালামের নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হায়দারকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রাখে। এ সময় সুজন মুন্সি এগিয়ে গেলে তাঁকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
আহত সুজন মুন্সি বলেন, ‘তিন বছর আগে আমার ভাইয়ের সামনে আমাদের গ্রামের রিপন খাঁ ও কালাম মন্ডলের মধ্যে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলায় আমার ভাই সত্যি সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আসামির কিছু হয়নি। ওই সময় থেকে কালামের ক্ষোভ—আমার ভাই সাক্ষ্য দিল কেন। সে কারণে আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে যায়। আমি জানতে পেরে দৌড়ে গেলে প্রথমে আমাকে রামদা দিয়ে কোপ দেয়। এরপর আমার ভাইকে কোপানো শুরু করে। আমার ভাই দৌড়ে একটি বাড়িতে গিয়ে পালালেও সেখান থেকে বের করে কুপিয়ে হাত-পা কেটে ফেলাইছে।’
ঘটনার পর দুই ভাইকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় হাসপাতালের বারান্দায় স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।