ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হলগুলোয় রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রবেশে বিদ্যমান বিধিনিষেধ বা ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’র তিন দফা দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক আকাশ আলী আজ মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ সংহতি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা ছাত্রী হলগুলোয় বিদ্যমান এই বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হলগুলোয় রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ নিয়মের কারণে নারী শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের ভোগান্তি ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন নারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’ তিন দফা দাবিতে গ্রাফিতি অঙ্কন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং নারী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও অভিজ্ঞতার নানা গল্প সংগ্রহের কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
প্ল্যাটফর্মটির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ছাত্রী হলের বৈষম্যমূলক ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নারী শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টা অবাধ যাতায়াত ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে আবাসিক ও অনাবাসিক সব ছাত্রীকে যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশের অধিকার দেওয়া এবং যথাযথ অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রিযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা; পাশাপাশি মা-বোনসহ নারী স্বজনদের ছাত্রী হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
যৌথ বিবৃতিতে মোজাম্মেল হক ও আকাশ আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান অধিকার, মুক্ত জ্ঞানচর্চা, নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী হলগুলোয় প্রবেশের সময়সীমা ও প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত বিদ্যমান নিয়মের কারণে নারী শিক্ষার্থীরা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
নেতারা বলেন, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিয়মিত ফি দেওয়ার পরও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের নিজ হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। নিরাপত্তার অজুহাতে রাতে হলে প্রবেশের সময়সীমা নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের হয়রানি, অপমানজনক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রশাসনিক হেনস্তার মুখোমুখি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নেতারা বলেন, দূরপাল্লার যাত্রা শেষে রাতে ক্যাম্পাসে ফেরা, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া, একাডেমিক ও সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকা কিংবা টিউশন শেষে ফিরতে দেরি হওয়া- এসব বাস্তব প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে শুধু নারী শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের বহিঃপ্রকাশ।
বিবৃতিতে অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের হলের ক্যানটিন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বাধার অভিযোগ করেন নেতারা। তাঁরা বলেন, অনেক অনাবাসিক শিক্ষার্থী ক্লাসের ফাঁকে নিজ হলের ক্যানটিনে খাবার খেতে পারেন না। ফলে তাঁদের বাইরে অস্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিমানহীন খাবার খেতে বাধ্য হতে হয়, যা স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করছে। তাঁরা দাবি করেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা নার্সিং কলেজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ নেই। ফলে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ওপর এ নিয়ম বহাল থাকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।