বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ তিন আইনজীবীকে ভর্ৎসনা করেছেন হাইকোর্ট।
নির্দেশনা অনুসারে আজ মঙ্গলবার তিন আইনজীবী হাজির হলে শুনানির সময় বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ তাঁদের ভর্ৎসনা করেন। বাকি দুজন হলেন—খুলনা বারের সদস্য শেখ নাজমুল হোসেন ও শেখ আশরাফ আলী পাপ্পু।
শুনানির সময় তিন আইনজীবীর পক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি মো. মমতাজ উদ্দিন ফকিরসহ একাধিক আইনজীবী। এ সময় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘যারা আদালত অবমাননা করে, বিচারকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, আপনারা তাদের পক্ষ নিয়ে আসবেন না। আপনারা পক্ষে দাঁড়ালে ভুল মেসেজ যায়।’
আইনজীবীরা বলেন, এবারের মতো ক্ষমা করে দেন। আমরা দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আর কখনো এমন হবে না। আদালত বলেন, ‘তারা ভুল করেনি, অপরাধ করেছে।’
শুনানির সময় হাইকোর্ট বেঞ্চ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘কোনো সভ্য লোক কি বিচারকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করতে পারে। তিনি কি বার সভাপতি হয়ে আদালতে দাপট দেখাচ্ছেন। আপনারা তাদের পক্ষে এলে আমরা বিব্রত হই। বার কাউন্সিল কি চরের লোকদের সনদ দিয়ে আইনজীবী বানাচ্ছে। মানুষ কতটা নিচু হলে বিচারকের সঙ্গে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে পারে!’
এ সময় খুলনা বার সভাপতি বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে, নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। আমাকে ক্ষমা করে দেন।’ এ সময় হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেন, ‘আইনজীবীরা যদি আদালতের সঙ্গে এ রকম আচরণ করেন তাহলে আদালত, বার কিছুই থাকবে না।’
এ সময় আদালত খুলনা বারের আরেক আইনজীবী শেখ আশরাফ আলী পাপ্পুকে ডায়াসের সামনে ডাকেন আদালত। জানতে চান তিনি আগে কী করতেন। জবাবে ব্যবসা করার কথা জানান তিনি। এ সময় আদালত বলেন, ‘আপনার আচরণ আইনজীবীর মতো না। আপনাদের মতো ব্যবসায়ীরা এসে আইন পেশাকে নষ্ট করে দিচ্ছে।’
পরে এই বিষয়ে আদেশের জন্য আগামীকাল বুধবার দিন ধার্য করা হয় বলে জানান আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।
এর আগে বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় গত ১ নভেম্বর ওই তিন আইনজীবীকে তলব করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করা হয়।