নাগরিক সেবায় অবহেলা করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। একই সঙ্গে রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সড়কবাতি সচল রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর কলাবাগান গ্রিন রোড স্টাফ কোয়ার্টার মিলনায়তনে ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট, রমনা ও শাহবাগ এলাকার ১৫ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ নাগরিক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ওয়ার্ড প্রতিনিধিরা এলাকার জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতির সমস্যা এবং জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। প্রশাসক এসব অভিযোগ ও পরামর্শ শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাছে সমস্যাগুলোর ব্যাখ্যা চান।
আবদুস সালাম বলেন, ‘কর্মকর্তাদের কাছে আপনারা জানতে চাইবেন, কেন নির্দিষ্ট জায়গায় সড়কবাতি জ্বলছে না, কেন এলাকায় দুর্গন্ধ হচ্ছে। এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্যই তাদের এখানে আসতে হবে। সমস্যাগুলো তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও সড়কবাতির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।
আবদুস সালাম বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়নকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও প্রতিটি ওয়ার্ডে কিছু উন্নয়নকাজ করার চেষ্টা করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্য সমস্যাগুলোরও সমাধান করা হবে। একই ওয়ার্ডের সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়।
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নিউমার্কেট, গ্রিন রোডসহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা আগে থেকেই রয়েছে। গত ১৭ থেকে ২০ বছরে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো সমাধানে সময় প্রয়োজন।
আবদুস সালাম বলেন, ‘ঢাকার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র কয়েক মাস হলো। আমি চাইলেও এই অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু ঠিক করে ফেলতে পারব না। সব রাস্তা মেরামত হয়ে যাবে, সব সড়কবাতি জ্বলবে, সব ব্যবস্থা নিখুঁতভাবে চলবে, এটা অল্প সময়ে সম্ভব নয়। এ জন্য সময় লাগবে।’
তবে কিছু নাগরিক সেবা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, যেখানে সড়কবাতি নষ্ট, সেখানে বাতি জ্বালাতে হবে। যেখানে আবর্জনা রয়েছে, তা পরিষ্কার করতে হবে। ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন কিংবা নাগরিক সনদ পেতে যেন কোনো সমস্যা বা হয়রানির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় প্রশাসক বলেন, রাজধানীর রাজপথ ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। নিউমার্কেটসহ আশপাশের এলাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অবৈধ হকার উচ্ছেদে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, এ ধরনের মতবিনিময় সভা শুধু একটি ওয়ার্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আশপাশের অন্যান্য ওয়ার্ডের প্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে এলাকার প্রকৃত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের পথ বের করা সম্ভব।
শেখ রবিউল আলম বলেন, সিটি করপোরেশন সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে সব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্দিষ্ট জনবল ও দপ্তর দিয়ে এককভাবে সব সমস্যার সমাধান করা কঠিন।
ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা সমাধানে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, শুধু সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেই হবে না, কখন তা সমাধান করা হবে, সেটিও নির্ধারণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ সিটি করপোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।