রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্বামীর বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন এক নারী। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটনার শিকার হন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী। পরে পুলিশ তাঁর স্বামী মনোয়ার হোসেন অপুকে গ্রেপ্তার করেছে। আহত নারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভাটারা থানার পুলিশ জানায়, মনোয়ার হোসেন স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটে থাকেন।
মামলার এজাহারে বাদী মনোয়ারের স্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে মনোয়ারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় এবং তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। কয়েক বছর ধরে স্বামী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাসায় এসে তাঁকে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে মাতাল অবস্থায় স্বামী বাসায় এসে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি করেন এবং তাঁকে মারধর করে আহত করেন। একপর্যায়ে রান্নাঘর থেকে দা নিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করলে তিনি সরে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান। পরে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
ওই ভবনের বাসিন্দারা জানান, গতকাল রাতে বাসার ভেতরে ভাঙচুরের শব্দ শোনা যায়। প্রতিবেশীরা বাধা দিতে গিয়ে ব্যর্থ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলতে বললেও মনোয়ার না খোলায় দরজা ভাঙার প্রস্তুতি নেয়। পরে তিনি দরজা খুললে চাপাতিসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং স্ত্রী ও সন্তানদের উদ্ধার করা হয়। আহত নারীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মনোয়ার এর আগেও ভবনের এক বাসিন্দা ও নিরাপত্তাকর্মীর ওপর চাপাতি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেছিলেন।
এ বিষয়ে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, স্ত্রীর করা মামলায় মনোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।