বিদেশে উন্নত জীবনের জন্য চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি মানব পাচারকারী চক্র। পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত জান্নাত ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গতকাল সোমবার রাজধানীর পল্টন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারেরা হলেন—ট্রাভেল এজেন্সির মালিক ইব্রাহীম মল্লিক নাহিদ (৩৫), শারমিন হোসেন লাবনী (৩৬) ও আরিফুর রহমান সাদী (২৪)। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি আইফোনসহ ৫টি স্মার্ট ফোন, একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়।
আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মুখপাত্র অতি: পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আজাদ রহমান।
তিনি বলেন, রিকশা চালক মোহাম্মদ সোনা মিয়া নামের এক ব্যক্তি ইউটিউবে জান্নাত ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের প্রতিষ্ঠানের এক বিজ্ঞাপনে দেখতে পান, ৫ লাখ টাকায় কার ওয়াশের ওয়ার্কিং ভিসায় কিরগিজস্তানে লোক নেওয়া হবে। বেতন হবে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা এবং খাওয়া নিজের, থাকা কোম্পানির। এতে আকৃষ্ট হয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নয়াপল্টনের অফিসে যোগাযোগ করে টাকা দেন।
আজাদ রহমান বলেন, সোনা মিয়া ছাড়াও মো. আকাশ শেখ (২১) ও মো. আকতার সরদার (২৩) নামের আরও দুজন টাকা দেন। প্রতিষ্ঠানটি তাদের কিরগিজস্তানের ভিসা ও বিমানের টিকিট দেন। তবে ভিসার কপি ও বিমানের টিকিট নিয়ে গত ৭ এপ্রিল কিরগিজস্তানে যাওয়ার জন্য হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন পুলিশ অনলাইনে তাদের ভিসার তথ্য না পেয়ে তাদের যাত্রা স্থগিত করে। পরে তারা জান্নাত ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সদুত্তর না পেয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করে।
সিআইডি মামলাটির তদন্ত করে জান্নাত ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল এজেন্সির মালিক ইব্রাহীম মল্লিক নাহিদসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারেরা এর আগে যাদের অভিবাসী কর্মী হিসেবে কিরগিজস্তানে পাঠিয়েছে তাঁদের অধিকাংশই সেখানে মানব পাচারের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা রুজু প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানান সিআইডি এই কর্মকর্তা।