গাজীপুরের অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ শিল্পকারখানা ছুটি ঘোষণার পরপরই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও পয়েন্টে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থেকেও মিলছে না পরিবহন। একটি বাস এলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে শত শত যাত্রী। এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর চৌরাস্তা, সালনা, পোড়াবাড়ি, রাজেন্দ্রপুর, হোতাপাড়া, ভবানীপুর, বাঘের বাজার, গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি বাজার, মাওনা চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ড, মাওনা পল্লী বিদুৎ মোড়, এমসি বাজার, নয়নপুর জৈনা বাজার বাসস্ট্যান্ডে ঈদে ঘরমুখী মানুষের ঢল। প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে শত শত যাত্রী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে। স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাগ কাঁদে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না গণপরিবহন।
নয়নপুর বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ শেরপুরের যাত্রী আমিনুল সরকার বলেন, ‘ঢাকা থেকে সব বাসে যাত্রী ভরা। এখান (নয়নপুর বাসস্ট্যান্ড) থেকে একজন যাত্রীও নেয় না। ময়মনসিংহ পর্যন্ত ভাড়া চায় ৪০০-৫০০ টাকা। ১৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, তবু গাড়ি নাই। ট্রাক-পিকআপ ভ্যানেও জায়গা নাই।’
এমসি বাজার বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় ফুলপুরের মহসিন আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, একটি কারখানায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী চাকরি করেন। কারখানা ছুটি হওয়ার পরপরই এমসি বাজার বাসস্ট্যান্ডে এসেছেন। দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে আল্লাহ জানেন!’
হালুয়াঘাটের যাত্রী মনোয়ারা বলেন, ‘একটি গাড়ি আসলে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। নারীদের জন্য এমনভাবে বাসে ওঠা খুবই ঝুঁকি। তাই অনেক সময় অপেক্ষা করছি। সঙ্গে শিশুসন্তান থাকায় বাসে ওঠা যাচ্ছে না।’
কোনাবাড়ী-নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, চন্দ্রা অংশে গাড়ির চাপ রয়েছে। তবে যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, মঙ্গলবার গাজীপুরের অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ শিল্পকারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সড়কে অনেক যাত্রী। পরিবহন সংকট বলা যাবে না। একসঙ্গে অনেক যাত্রী বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে আসার কারণে এমনটি হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ রয়েছে।