ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বা সংলগ্ন রাস্তায় কোনো পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি দাবি করেছেন, দুদিন আগে আকস্মিক ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু ব্যবসায়ী সাময়িকভাবে তাঁদের পশু নিয়ে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
আজ বুধবার বিকেলে দিয়াবাড়ী পশুর হাট সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অভিযোগ করেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, এই মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বা আশেপাশের কোনো জায়গা হাটের জন্য ইজারা দেওয়া হয়নি। গত দুদিন আগে হঠাৎ ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু ব্যবসায়ী গরু নিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা এখানে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। তিন দিন আগের একটি (পুরোনো) ভিডিও ভাইরাল করে সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আপনারা সরেজমিনে এসে দেখে যান, পশু কেনাবেচা হাটের নির্ধারিত সীমানার ভেতরেই চলছে।’
রাস্তায় পশু অবস্থান করার কারণে মেট্রোরেল সংলগ্ন কিছু এলাকা নোংরা হয়েছিল স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী জানান, আজ সকাল থেকেই পুরো এলাকা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, মেট্রোর আশেপাশে কোনো পশুর হাট বা কেনাবেচা চলতে দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
পরিদর্শনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি নজরে আসার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘যখন বৃষ্টি হয়েছিল, তখন কিছু ব্যবসায়ী গরু নিয়ে সাময়িকভাবে সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। আমরা সাথে সাথে তাদের সরিয়ে দিই। পরবর্তীতে আবারও কিছু লোক বসার চেষ্টা করছে জানতে পেরে আমি নিজে রাত দেড়টায় ঘটনাস্থলে এসে ব্যবস্থা নিয়েছি।’
প্রশাসক আরও স্পষ্ট করেন, এই জায়গাটি কোনোভাবেই ইজারা দেওয়া হয়নি। যারা নিয়ম লঙ্ঘন করে মেট্রো স্টেশনের নিচে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ইজারাদারদেরও নির্ধারিত সীমানার বাইরে হাট না ছড়ানোর ব্যাপারে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পশুর হাটগুলো যেন জনভোগান্তি তৈরি না করে এবং নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন।