দীর্ঘ চাকরিজীবনে পদবঞ্চনা, বৈষম্য, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি।
আজ সোমবার পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এক অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে রেজাউল করিম মল্লিক জানান, প্রায় ২৯ বছরের চাকরিজীবনে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। দীর্ঘ বঞ্চনা, অপমান ও অপেক্ষার পর আজকের এই মুহূর্ত তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রেজাউল করিম মল্লিক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে চাকরিজীবনের শুরুতেই বৈষম্যের শিকার হন। ১৯৯৮ সালে চাকরিতে যোগদানের মাত্র ১৭ মাসের মাথায় তৎকালীন সরকার তাঁর ব্যাচের মধ্যে শুধু তাঁকেই অব্যাহতি দেয়। পরবর্তী সাড়ে চার বছর তাঁকে অপমান, অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে কাটাতে হয়েছে।
ডিআইজি জানান, সেই সময় সমাজ, আত্মীয়স্বজন এমনকি নিজের পরিবারের কাছেও নিজেকে অসহায় মনে হতো। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রেজাউল করিম মল্লিক জানান, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মাদারীপুরের শিবচরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ধানের শীষের মালা পরিয়ে বরণ করার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। তিনি সেই মুহূর্তকে জীবনের অন্যতম সৌভাগ্য হিসেবে বর্ণনা করেন।
রেজাউল করিম মল্লিক আরও জানান, ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে কয়েকবার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। সর্বশেষ ১৯৮১ সালের ২৫ জানুয়ারি আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে জুনিয়র ক্যাডেট কোর ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। অনুষ্ঠান শেষে করমর্দন করে তাঁকে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়ার স্মৃতিও আবেগের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি।
রেজাউল করিম বলেন, ‘সেদিন মনে হয়েছিল যেন বিশ্ব জয় করেছি। কিন্তু কয়েক মাস পরই ৩০ মে সেই শোকাবহ সংবাদ শুনতে হয়। নিজেকে আর সামলে রাখতে পারিনি, কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম।’ বক্তব্যে তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জীবনের কঠিন সময়ে প্রয়াত খালেদা জিয়ার একটি আশ্বাস কিংবা স্নেহমাখা বাক্য তাঁকে নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি জুগিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রেজাউল করিম বলেন, ‘আজ আপনার সামনে এসে মনের গভীরে জমে থাকা স্মৃতিগুলো ব্যক্ত করেছি। আমার ভুলত্রুটি মার্জনা করার জন্য বিনীতভাবে আবেদন করছি।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।