রাজধানীর যানজট কমাতে ও বাস চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে সায়েদাবাদের বাইরে থাকা বাস কাউন্টারগুলো ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে টার্মিনালের ভেতরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও এখনো কোনো কাউন্টার পুরোপুরি টার্মিনালের ভেতরে কার্যক্রম শুরু করেনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনালে এখনো প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। পাশাপাশি আপাতত শুধু নন-এসি বাসের কাউন্টার টার্মিনালের ভেতরে নেওয়া হবে। কাঁচপুরে নতুন টার্মিনাল প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত এসি বাসের কাউন্টার আগের জায়গাতেই থাকবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টার্মিনালের বাইরে গড়ে ওঠা অধিকাংশ বাস কাউন্টার এখনো আগের স্থানেই রয়েছে। কোথাও কোথাও স্থানান্তরের প্রস্তুতি চললেও আনুষ্ঠানিকভাবে টার্মিনালের ভেতরে কাউন্টার চালু হয়নি।
রয়েল পরিবহনের সায়েদাবাদ কাউন্টারের কাউন্টার মাস্টার ইয়ারুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আগে যেখানে কাউন্টার ছিল, এখনো সেখানেই আছে। টার্মিনালের ভেতরে কবে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা পাইনি। শুধু আমাদের নয়, বেশির ভাগ পরিবহনের কাউন্টারই এখনো বাইরে রয়েছে।’
একই কথা জানান যাত্রাবাড়ীর গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার উজ্জ্বল বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী টার্মিনালের ভেতরে কাউন্টার নেওয়ার কাজ চলছে। তবে এখনো স্থানান্তর হয়নি। আশা করছি, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আমাদের কাউন্টার ভেতরে চলে যাবে।’
কাউন্টার-সংশ্লিষ্টরা জানান, কাউন্টার টার্মিনালের ভেতরে গেলেও বাস চলাচলের রুটে কোনো পরিবর্তন আসছে না। আবদুল্লাহপুর থেকে যেসব বাস সায়েদাবাদ হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যায়, সেগুলো আগের মতোই চলবে। সায়েদাবাদ কোনো বাসের শেষ গন্তব্য হবে না।
এর আগে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছিলেন, সায়েদাবাদ টার্মিনালে যানবাহন চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করতে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথে দুটি করে মোট চারটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হবে। পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের অনুরোধে কাউন্টার স্থানান্তরের জন্য ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।
ডিএসসিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে সায়েদাবাদ শুধু সিটি টার্মিনাল হিসেবে থাকবে এবং আন্তজেলা বাস কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে। একইভাবে গুলিস্তান বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় আরও শৃঙ্খলা আসবে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, সায়েদাবাদ টার্মিনালের ভেতরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। জায়গা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কাজও করা হয়েছে এবং আলোর ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে টার্মিনালটি ব্যবহার উপযোগী করা যায়।
তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী জুবায়ের মাসুদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, সায়েদাবাদে কাউন্টার স্থানান্তরের কাজ জোরেশোরে চলছে। মালিক সমিতির পাশাপাশি পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে অনেক কাউন্টার স্থানান্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে সরানো হচ্ছে। তবে কাঁচপুর টার্মিনাল প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত এসি বাসের কাউন্টার সায়েদাবাদ টার্মিনালের ভেতরে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, সায়েদাবাদ টার্মিনালে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে জায়গা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তবে ওয়াশ রুম, বসার স্থান, ফ্যান, পর্যাপ্ত আলোসহ প্রয়োজনীয় যাত্রীসেবা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। এসব কাজ শেষ হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
ঢাকা-খুলনা রুটের নিয়মিত যাত্রী হুমায়রা আক্তার বলেন, ‘সায়েদাবাদ টার্মিনালের পরিবেশ এখনো যাত্রীবান্ধব নয়। বাথরুম, বসার জায়গা, পর্যাপ্ত আলো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে টার্মিনাল ব্যবহার করতে সমস্যা হবে না। অন্যথায় যাত্রীদের ভোগান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকেই যাবে।’
এদিকে রাজধানীর যানজট কমাতে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকেও পূর্বাচলে নবনির্মিত অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রায় ২৫০টি বাস সেখানে নেওয়া হয়েছে। যেসব বাসের মহাখালীতে তাৎক্ষণিক ট্রিপ থাকে না, সেগুলো পূর্বাচলে অবস্থান করবে। নির্ধারিত সময়ে যাত্রী পরিবহনের জন্য সেখান থেকে মহাখালী টার্মিনালে আসবে।
বর্তমানে রাজধানীতে গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ তিনটি প্রধান বাস টার্মিনাল রয়েছে। এ ছাড়া ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল থেকেও কয়েকটি জেলার বাস চলাচল করে। এসব টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন। রাজধানীর ভেতরে টার্মিনালগুলো থাকায় বিপুলসংখ্যক দূরপাল্লার বাস শহরের বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করে, যা যানজটের অন্যতম কারণ বলে মনে করছে সরকার।
সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে, মহাখালী টার্মিনাল পূর্বাচলে, গাবতলী টার্মিনাল হেমায়েতপুরে এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা বাস কাউন্টারগুলোও নির্দিষ্ট টার্মিনালের মধ্যে সীমিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।