কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার উপজেলার পৌর সদরের নাটাপাড়া, কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট এবং মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামে পৃথক এ ঘটনাগুলো ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু রশিদ তোফায়েল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামের হাছান মিয়ার ছেলে শাহাদাৎ হোসেনকে (৬) মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। স্থানীয়রা জানান, বাড়ির পাশের মরা ডাকাতিয়া নদী থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
দুপুর ১২টার দিকে কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের ফরহাদ ইবনে মোস্তফার ১৫ মাস বয়সী ছেলে মোহাম্মদকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।
এরপর দুপুর দেড়টার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মিজানুর রহমানের ছেলে আয়ান (৭) বাড়ির পাশের একটি পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়।
সাবেক কাউন্সিলর মিজানুর রহমান জানান, তার ছেলে কুমিল্লার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঈদের ছুটিতে সে বাড়িতে এসেছিল। আজ দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির অদূরের পুকুরে সাঁতার কাটতে নামে। একপর্যায়ে পুকুরের মাঝখানে গিয়ে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মোহাম্মদের বাবা ফরহাদ ইবনে মোস্তফা জানান, সকালে পরিবারের সবার অগোচরে ঘর থেকে বের হয়ে যায় তার ছেলে। পরে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের পুকুরে তাকে ভাসতে দেখে খবর দিলে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাহাদাৎ এর বাবা হাছান মিয়া বলেন, তারা যুগিরহাট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। সোমবার সকালে শাহাদাৎ উঠানে খেলছিল। অনেকক্ষণ তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির পাশের মরা ডাকাতিয়া নদীতে তার মরদেহ ভেসে উঠতে দেখা যায়। শাহাদাৎ একটি মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু রশিদ তোফায়েল বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বর্ষা মৌসুমে পুকুর, খাল-বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের ব্যাপারে অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।